শিরোনাম
◈ জুলাই সনদের কোনো আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ লাগেজ চুরি ঠেকাতে লাইভ নজরদারি, কতটা স্বস্তিতে যাত্রীরা? ◈ এশিয়া কাপের জন‌্য অনূর্ধ্ব-১৯ স্কোয়াড ঘোষণা করলো বি‌সি‌বি ◈ চারদিনেই ও‌য়েস্ট ইন্ডি‌জের কা‌ছে টেস্ট হারলো বাংলাদেশ ◈ মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার নেস্ট বারে দেড় ঘণ্টা ছিলেন নারীসহ তাহফিস সাউরি(ভিডিও) ◈ তাহসিফ হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ, বললেন ‘আমি ফুললি স্ট্রং’ ◈ ১১ দলের লংমার্চে যাননি নাহিদ, জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে এনসিপির? ◈ ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদসহ ৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসরে ১ ◈ মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল ফি ৮ হাজার টাকার বেশি নয়, অতিরিক্ত নিলেই কঠোর ব্যবস্থা ◈ ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে মিরপুরে ফের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:১০ রাত
আপডেট : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:১০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ৫৯ দিনে গ্রেপ্তার ১০৫৯

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : পর্যটননগরী কক্সবাজারে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে সদর থানা পুলিশ। গত ৫৯ দিনে চিহ্নিত ১৯৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ও বিভিন্ন মামলার মোট ১ হাজার ৫৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬০ জন চোর ও ছিনতাইকারী, ৮৬ জন মাদক কারবারি এবং ৩৪০ জন মাদকসেবী রয়েছেন। এ ছাড়া পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় ৫২ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৮৪ জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, ছিনতাই, চুরি ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সন্দেহভাজন ও চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোটেল-মোটেল জোন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পর্যটননগরী কক্সবাজারকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু—এই লক্ষ্য সামনে রেখে সদর থানাকে দালালমুক্ত রাখা হয়েছে। মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ যেকোনো সেবা পেতে কাউকে টাকা দিতে হচ্ছে না। সেবাপ্রার্থীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের মতে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে হোটেল-মোটেল জোনে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ চিহ্নিত করা, পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানোও জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তাদের মতে, পর্যটননগরী কক্সবাজারকে নিরাপদ রাখতে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ