বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার ‘স্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ডের আদেশ হওয়ার পর আদালত থেকে বের করা হলে দীপ স্বজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং।
তিনি টেনশন করতে মানা করেন। পরে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে রিমান্ড শুনানিতে দীপের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আসামি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। আমরাও চাই সত্য উদঘাটন হোক। আসামি কিন্তু প্রথম থেকে সহযোগিতা করে আসছে। এটা হত্যা না আত্মহত্যা সন্দেহ হয়।
আর ভিকটিমের শরীরে কিন্তু কোনো আঘাতের চিহ্ন নাই। ডিজিস্টের (ভুক্তভোগী) পরিবার কিন্তু মামলা করতে চায়নি। আমরাও সত্য উদঘাটনের পক্ষে। এ কারণে জামিন আবেদন করিনি।’ দীপের আইনজীবী আরো বলেন, ‘ভিকটিমের সঙ্গে আসামির ৬ বছরের সম্পর্ক, পারিবারিকভাবে এ সম্পর্ক।
ভিকটিমের বাবা কিন্তু একটিবারও বলেননি আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আর ভিকটিম বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। রাত ২টার দিকে তিনি কেন মাদক আস্তানায় যাবেন, তা বোধগম্য নয়।’ আরেক আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘আসামি (দীপ) ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি জড়িত থাকলে কিন্তু বাসায় থাকতেন না। প্রথম থেকে কিন্তু তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আমরাও চাই প্রকৃত রহস্য উঠে আনুক।’
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত শেষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করাসহ পাঁচ কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এ দিন বেলা সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। রিমান্ড শুনানির জন্য বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে দীপের পক্ষে মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
রাতেই মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যেই শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করে দীপ। এক পর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।