মুম্বই পুলিশের ডগ স্কোয়াডে যোগ দিচ্ছে ছয় নতুন সদস্য। জাতে বেলজিয়ান ম্যালিনইস। ল্যাব্রাডর-ডোবারম্যানদের যখন রমরমা তখন ২০১৯ সালে এই জাতের পাঁচটি কুকুর নিয়ে আসা হয়েছিল মহারাষ্ট্রের মুরবাদ থেকে। সাত বছর বাদে নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির পর মুম্বই পুলিশের ডগ স্কোয়াডে মোট বেলজিয়ান ম্যালিনইসের সংখ্যা দাঁড়াল ১১। বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ খুঁজতে সিদ্ধহস্ত বেলজিয়ান ম্যালিনইস। কোনও বড় জনসমাবেশের আগে সেই স্থান সুরক্ষিত করতে বড় ভূমিকা পালন করে এই কুকুর।
কী ভাবে পরিচিতির আলোয় এল বেলজিয়ান ম্যালিনইস? ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানে প্রবেশ করে অল-কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন নেভি সিলের একটি দল। তাদের সঙ্গ দিয়েছিল এই কুকুর। তাদের ক্ষিপ্রতা, অধ্যাবসায়, ঘ্রাণশক্তি এবং নির্দেশ পালন করার ক্ষমতা— সবই প্রশংসনীয়। এই সমস্ত কারণেই যে কোনও বড় জায়গা খুঁজে দেখতে ও সুরক্ষিত করতে পুলিশের সেরা সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে বেলজিয়ান ম্যালিনইস।
এক উচ্চপদস্থ আইপিএস অফিসার বলেন, ‘‘বেলজিয়ান ম্যালিনইস খুব বুদ্ধিমান প্রাণী। দ্রুত নির্দেশ বুঝে নিয়ে কাজে নামতে পটু। দীর্ঘক্ষণ একটানা কাজ চালিয়ে যেতে পারে এরা।’’ তাঁর বক্তব্য, অন্য জাতের কুকুরগুলিকে অবসর দিয়ে শুধু বেলজিয়ান ম্যালিনইসকেই বম্ব স্কোয়াডে কাজে লাগানো হতে পারে।
ল্যাব্রাডরের চেয়ে ক্ষীণকায় হওয়ার কারণে এদের ক্ষিপ্রতাও বেশি। বুদ্ধিমত্তা ও ঘ্রাণশক্তির তুল্যমূল্য বিচারেও ল্যাব্রাডরের থেকে এগিয়ে এরা। যে ছ’টি কুকুরকে সদ্য (কয়েক মাস আগে) নিয়ে আসা হয়েছে তাঁদের মধ্যে একটি প্রশিক্ষণ শেষ করে বম্ব স্কোয়াডে যোগ দিয়েছে ইতিমধ্যেই। বাকি পাঁচটি কুকুর আরও দুই ল্যাব্রাডর-সহ বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে পুণের শিবাজিনগরের কুকুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।
এক অফিসারের বক্তব্য, ‘‘পরবর্তীকালে আমরা আরও কয়েকটি বেলজিয়ান ম্যালিনইস আনার কথা ভাবছি। মূলত বিস্ফোরক চিহ্নিত করা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য।’’
মুম্বই পুলিশ প্রথম এই জাতের পাঁচটি কুকুরছানা এনেছিল ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। মুরবাদের এক ‘ডগ ব্রিডার’ (কুকুর প্রজনন ও পালনকারী) কাছ থেকে তাদের সংগ্রহ করা হয়। তখন তাদের বয়স প্রায় ৪৫ দিন। কয়েকজন মহিলা কনস্টেবলের দায়িত্বে রাখা হয় তাদের। এখন ল্যাব্রাডর ও ডোবারম্যানদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুলিশকে সাহায্য করে চলেছে তারা।
বেলজিয়ান ম্যালিনইসের নতুন দলটি আসার ফলে মুম্বই পুলিশের অধীনে মোট কুকুরের সংখ্যা হল ৩০। এর মধ্যে বেলজিয়ান ম্যালিনইস ছাড়াও রয়েছে ল্যাব্রাডর, জার্মান শেফার্ড ও ডোবারম্যান জাতের কুকুর।
কালাচৌকির বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজ়াল স্কোয়াডে রয়েছে ১২টি কুকুর। তার মধ্যে সাতটি ল্যাব্রাডর ও পাঁচটি বেলজিয়ান ম্যালিনইস। গোরেগাওঁয়ের নিরাপত্তা বিভাগেও রয়েছে ১২টি কুকুর। তার মধ্যে পাঁচটি বেলজিয়ান ম্যালিনইস ও সাতটি ল্যাব্রাডর। অপরাধদমন শাখায় জার্মান শেফার্ড ও ডোবারম্যান মিলিয়ে রয়েছে ছ’টি কুকুর।
কেমন হয় এদের জীবন? কুকুরছানাগুলির বয়স ছ’মাস না-হওয়া পর্যন্ত তাদের ভারপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের বা হ্যান্ডলারদের দায়িত্বে স্কোয়াডেই থাকে। এই সময় তাদের টিকা দেওয়া হয়, স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়। এদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করেন কর্মীরা, যাতে যে কোনও নির্দেশে দ্রুত বুঝতে ও পালন করতে তারা সক্ষম হয়।
প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ হলে তাদের পাঠানো হয় শিবাজিনগরের কুকুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। সেখানে আরও ছ’মাসের প্রশিক্ষণ চলে। প্রতিদিন সকাল বিকেল মিলিয়ে সাত ঘণ্টা কাজ করে তারা। প্রাথমিক ভাবে আনুগত্য, নিয়মানুবর্তিতা ও নির্দেশ মানার উপর জোর দেওয়া হয়। সেই স্তরে উত্তীর্ণ হলে শুরু হয় বিস্ফোরক চেনা এবং খুঁজে বের করার প্রশিক্ষণ। তার পর তাদের ডগ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।