ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত হাজার খানেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনো মাত্রই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে। আটক হয়েছেন বামপন্থী ছাত্র নেত্রী নেহা বোরা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও।
বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করেছে পুলিশ। এর আগে সকালেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকেই আটক করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের ঘোষিত এলাকা হিসেবে যন্তর মন্তরকে একরকম দুর্গ বানিয়ে ফেলা হলেও দুপুরে হঠাই বামপন্থী ছাত্র-নেত্রী নেহা বোরা রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক লিদিয়া পলগ্রিন বলেছেন, দিল্লির রাস্তাজুড়ে পুলিশি তাণ্ডব চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, পুলিশ রাস্তায় যাকে পাচ্ছে, সেই সব তরুণ-তরুণীকে ধরে বাস ও পুলিশের ভ্যানে তুলে নিচ্ছে।
এ ছাড়া বিবিসি সংবাদদাতা প্রত্যুষ রায় দিল্লি থেকে জানান, মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। যন্তর মন্তরে যাওয়ার সমস্ত রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। অনেক রাস্তায় কাঁটাও বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। কাউকেই ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কেউ স্লোগান তুললেই তাকে আটক করে বাসে তুলে দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, যন্তর মন্তর থেকে চার কিলোমিটার দূরেও বহু গাড়ি আটকে দেয়া হচ্ছে। শুধু আন্দোলনকারীরাই নন, অনেক জায়গায় সাংবাদিকদেরও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্য দিল্লির সমস্ত দোকানপাট বন্ধ।
সূত্র: মানবজমিন