শিরোনাম
◈ কোনো দেশের মুখাপেক্ষী নয়, সমমর্যাদার অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ দিল্লিতে সিজেপি নেতাদের আটক, আগেই আন্দোলনের পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করে রেখেছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ◈ মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় যৌথ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের হিরা ◈ শেখ হাসিনার সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা হয়, তিনি দেশে ফিরতে চান: জি এম কাদের (ভিডিও) ◈ মানববর্জ্য ও কৃষিজ বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন, গবেষকদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ◈ ‘ভোট চুরির প্রমাণ চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি, আমাদের কাছে তা আছে’: রাহুল গান্ধী ◈ খুলনার চার থানায় বিশেষ অভিযান, পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ◈ দিল্লিতে ধর্না থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক, কারণ জানাল পুলিশ ◈ ২০২৭ সালের হজ মিশন ভিসা পেতে ২৭০ এজেন্সিকে জরুরি নির্দেশ, তথ্য জমার শেষ সময় রোববার ◈ চুরির অপরাধে বাতিল হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৭ বিকাল
আপডেট : ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি, মমতা-কেজরিওয়ালসহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটকের অভিযোগ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। এতে হাজারো মানুষকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাংবাদিক, সংবাদকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরি করেন এমন কয়েকজনকেও আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর আগেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সন্দেহের ভিত্তিতে অনেককে আটক করে বাসে তোলা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে অস্থায়ী আটককেন্দ্রে রাখা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ বিক্ষোভে অংশ নিতে এসেছিলেন, কেউ সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এমনকি এক ব্যক্তি আত্মীয়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় আটক হওয়ার অভিযোগও করেছেন।

দিল্লির বাওয়ানা এলাকার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের একটি অংশ আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে ১৭ জন পুরুষকে স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়েছিল। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনের দাবি, বিক্ষোভের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।   

Advertisement

এ ছাড়া যন্তর মন্তরের কাছাকাছি ভিডিও ধারণের সময় দুজন কনটেন্ট নির্মাতাকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, আরও কয়েকজনকে শালিমার বাগ এলাকার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বিদ্যালয়ের একটি অংশও অস্থায়ী আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

সাংবাদিকদের আটকের অভিযোগ

বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানে সংবাদকর্মীদের আটক করার অভিযোগও সামনে এসেছে। নিউজলন্ড্রি ও স্ক্রলের কয়েকজন সাংবাদিকের দাবি, তারা নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় তাঁদের বাসে তুলে রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক অবস্থায় তাদের মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন এক সাংবাদিক। পরে দিল্লি পুলিশ সূত্র জানায়, আটক সাংবাদিকদের দুপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশি অভিযান নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের

যন্তর মন্তরকেন্দ্রিক এই ধরপাকড় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, পুরো পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সরকার ভয় পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অতীতের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একসময় প্রধানমন্ত্রী বলতেন, ভয় ভালো। এখন বিরোধীরাও বলছেন, এই ভয় ভালো।

বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল এবং সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা, তাদের পরিচয় এবং আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

  • সর্বশেষ