শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৫০ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতের শয়নকক্ষে প্রভাব ফেলছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আঁচ এবার পৌঁছেছে ভারতের শয়নকক্ষে। দেশটির ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির কনডম উৎপাদন শিল্প বর্তমানে ভয়াবহ সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে বাজারে পণ্যটির ব্যাপক ঘাটতি এবং খুচরা পর্যায়ে এর দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে দেশটিতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই ঘাটতি তৈরি হয়নি। বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত এবং উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট শুরু হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে এই খাতের উৎপাদন খরচও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

advertisement

বছরে ৪০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে ভারত। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেডের মতো উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। কেবল এইচএলএল লাইফকেয়ারই দেশটিতে বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।

কনডম উৎপাদনের জন্য সিলিকন অয়েল এবং অ্যামোনিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের বর্তমানে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে; যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

advertisement

অন্যদিকে, কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্যাকেজিং উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও প্যাকেজিং সামগ্রীর সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং দামের অস্থিরতা উৎপাদন ও ক্রয়াদেশের সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দেশটির কনডম উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন খাতের বিপর্যয়।

advertisement

ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের কাছে এই পণ্য সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সাধারণত ‌‘ব্যাপক বাজারজাত-স্বল্প মুনাফা’ মডেল অনুসরণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যবসায়িক মডেল চরম চাপের মুখে পড়েছে।

উৎপাদন খরচ বর্তমানে একেবারেই অনির্দিষ্ট হয়ে পড়েছে। গত ১১ মার্চ দেশটির এক আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছিল, জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলোর সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। এতে উৎপাদনকারীদের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ আরও সংকুচিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই সংকটের সুদূরপ্রসারী জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ রোধে কনডম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দাম বৃদ্ধি বা স্বল্পতার কারণে এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলোর ফার্মেসিগুলোতে কনডমের অনিয়মিত সরবরাহের চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

 

  • সর্বশেষ