শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১১ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৬ রাত
আপডেট : ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শব্দহীন ও শনাক্ত করা কঠিন: ইরানের আপগ্রেডেড শাহেদ-১০১ ড্রোন প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে নিজেদের অস্ত্রাগারে যুক্ত হওয়া নতুন প্রযুক্তির ড্রোন উন্মোচন করেছে ইরান। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরানের বহুল আলোচিত ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ‘শাহেদ-১০১’-এর এই উন্নত সংস্করণটি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিধ্বংসী এবং শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা ড্রোনটির সাম্প্রতিক কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের চিত্র প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা গেছে, প্রথাগত রাডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধোঁকা দিতে ড্রোনটিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের সংস্করণগুলোতে পেছনের দিকে গ্যাসোলিন ইঞ্জিন ব্যবহৃত হওয়ায় ওড়ার সময় এক ধরনের নির্দিষ্ট শব্দ তৈরি হতো, যা সহজেই শনাক্ত করা যেত। তবে নতুন সংস্করণে প্রপেলারটি ড্রোনের সামনের অংশে স্থাপন করা হয়েছে এবং এটি শক্তিশালী বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে পরিচালিত হয়।

এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে ড্রোনটি ওড়ার সময় প্রায় কোনো শব্দ তৈরি করবে না। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহারের ফলে এর তাপ নির্গমন হবে নগণ্য। ফলে আধুনিক রাডার এবং ইনফ্রারেড শনাক্তকরণ সিস্টেমগুলোর পক্ষে একে খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে। সমরবিদদের মতে, এটি নিঃশব্দে লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানতে সক্ষম।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, নতুন শাহেদ-১০১ ড্রোনে একটি বিশেষ রকেট বুস্টার যুক্ত করা হয়েছে, যা উৎক্ষেপণের মুহূর্তে একে অভাবনীয় গতি প্রদান করবে। নির্দিষ্ট উচ্চতা ও গতি অর্জনের পর বুস্টারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মূলত এটি একটি ‘লোইটারিং মিউনিশন’ বা দীর্ঘ সময় আকাশে ওড়ার সক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন, যা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে নিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকসহ আছড়ে পড়ে।

আধুনিক যুদ্ধে কম খরচে দীর্ঘ পাল্লার কার্যকর আক্রমণের ক্ষেত্রে ইরান ড্রোনের ওপর যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, এই নতুন সংস্করণটি তারই বড় প্রমাণ। আকারে ছোট এবং শব্দহীন হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের শ্রবণসীমার বাইরে থেকে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম। ড্রোনের এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে এই অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক অবস্থানগুলোর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ