শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১১ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিনি বাংলাদেশে ফের জীবনের গতি

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি’র সরকার গঠনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের শীতলতা কাটতে শুরু করেছে। দুই দেশের নেতৃবৃন্দের কথায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আন্তরিকতাও চোখে পড়ছে। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশিদের জন্য হোটেলের বন্ধ দরজা খুলে দেয়া শুরু হয়েছে। আর কলকাতায় মিনি বাংলাদেশ আশায় বুক বেঁধেছে। ঈদের আগেই বাংলাদেশিদের আনাগোনা শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সূত্র মতে উত্তরবঙ্গের হোটেলগুলো থেকে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে হোটেলের দরজা খুলে দেয়া হচ্ছে। এখন থেকে আবার আগের মতো বাংলাদেশি পর্যটকরা যেকোনো হোটেলেই থাকতে পারবেন। পাবেন সব ধরনের পরিষেবা। গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে বাংলাদেশে নির্বাচনের পর স্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের হাত ধরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ওপার বাংলা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলো খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। এই অবস্থায় নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন হোটেল মালিকরা।

advertisement

হাসিনা সরকারের পতনের পর একাধিক ইস্যুতে দু’দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়ে। প্রভাব পড়ে এপার বাংলাতেও। ২০২৪ সালের ৯ই ডিসেম্বর থেকে শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সমস্ত হোটেলে রুম ও পরিষেবা দেয়া বন্ধ করে দেয় হোটেল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এক মাস পরেই মানবিকতার খাতিরে মেডিকেল ভিসা বা স্টুডেন্ট ভিসায় আসা বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য অবশ্য ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফের বাংলাদেশে অশান্তি বাড়ার অভিযোগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশিদের জন্য পরিষেবা বন্ধ করে দেয় হোটেল মালিকরা।

গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার আসায় ধীরে ধীরে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের আশা মিলছে। সেকারণে আমরা সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি। জেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। শিলিগুড়িতে প্রায় ২৭০টি হোটেল রয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য হোটেলের দরজা বন্ধ রাখায় মোটা অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে হোটেল মালিকদের।  মালদহের হোটেল মালিকরাও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। সেখানকার হোটেল মালিকরাও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বাংলাদেশি পর্যটকদের পরিষেবা দিতে যাচ্ছেন।

advertisement

এদিকে, কলকাতায় মিনি বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিত নিউ মার্কেট, মারকুইজ স্ট্রিট, সদর স্ট্রিটের ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর আশায় বুক বেঁধেছেন। মারকুইজ স্ট্রিটের একটি হোটেলের ম্যানেজার সাব্বির আলি জানিয়েছেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশায় রয়েছি। ভিসা চালু হওয়ার পর বাংলাদেশি পর্যটকদের আসা অনেক বাড়বে। এখন হোটেলে বাংলাদেশিরা নেই বললেই চলে। গত দেড় বছর এভাবেই চলেছে। প্রচুর ক্ষতি হয়েছে এই অঞ্চলের সব ধরনের ব্যবসায়ীদের। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতায় বাংলাদেশিদের জন্য হোটেলের দরজা সবসময় খোলা ছিল। পরিবহন ব্যবসায়ীরাও সমানভাবে আশাবাদী। বাংলা খাবারের রেস্তরাঁগুলোও নতুন জীবন ফিরে পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউ মার্কেটের কাপড়ের দোকানের মালিক থেকে ফুটপাথের ব্যবসায়ী সকলেই আশা করছেন এই ঈদের আগেই বাংলাদেশি পর্যটকদের ঢল নামবে। আবার গমগম করবে মিনি বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস পরিষেবা ফের শুরু হয়েছে। তবে আপাতত সপ্তাহে দু’বার করে এই বাস চালু করা হয়েছে পরীক্ষামূলকভাবে। পরবর্তীতে এই বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাস পরিষেবা নতুন করে শুরু হওয়ায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা স্বাগত জানিয়েছেন। ত্রিপুরার পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, এই পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।

advertisement

সূত্র: মানবজমিন

  • সর্বশেষ