শিরোনাম
◈ হা‌রিস রউফ পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলে না থাকায় বিস্মিত অ‌স্ট্রেলিয়ার ক্লার্ক ও ফিঞ্চ ◈ ভোটারদের মন জয় করতে প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতা, বক্তব্যে উত্তাপ ◈ সাবেক ৩০ এমপির গাড়ি নিয়ে বিপাকে পড়ল এনবিআর ◈ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সরকারের মেয়াদ বাড়বে এমন তথ্য ভিত্তিহীন: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ◈ বয়কট গুঞ্জনে পাকিস্তানের ঘুম হারাম করে দিলো আইসল্যান্ড ◈ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমান, আ.লীগ ও ভারত প্রশ্নে যা বললেন ◈ যুক্তরাজ্যে লরিতে লুকিয়ে ২৩ বাংলাদেশিকে পাচারের চেষ্টা, আটক ৫ ◈ আ.লীগ থাকলে জামায়াত থাকবে, জামায়াত থাকলে আ.লীগ থাকবে : মাহফুজ ◈ এনসিটি বিদেশিদের দিতে চুক্তির বিরোধিতায় চট্টগ্রাম বন্দরে দুই দিনের ধর্মঘটের ডাক ◈ শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচার গাড়িতে হামলা, আহত ২

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৩৩ সকাল
আপডেট : ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডলারের বিপরীতে রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন: ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে বিপাকে ভারত

ব্যাপক ধস হয়েছে ভারতীয় রুপির। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে ভারতীয় মুদ্রার মান।

বৃহস্পতিবার ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমে দাঁড়িয়েছে ৯১.৯৮৫০, যা গত সপ্তাহে হওয়া সর্বনিম্ন রেকর্ড ৯১.৯৬৫৯-কেও ছাড়িয়ে গেছে।

চলতি বছরে রুপির মান রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্য রফতানির ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করার পর থেকে রুপির মান প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। অথচ ভারত সরকারের তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.২ শতাংশ।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকিং কোম্পানি গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকরা বলেন, “যদিও আমরা আশা করছি যে ভারতীয় রফতানির ওপর বর্তমান উচ্চ মার্কিন শুল্ক শেষ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, তবে এই মধ্যবর্তী সময়ের বিলম্ব ভারতের বৈদেশিক ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।” সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যে রুপির মান ডলার প্রতি ৯৪-এ নেমে যেতে পারে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় স্পট মার্কেট খোলার আগেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। একজন বিদেশি ব্যাংক ব্যবসায়ী সংবাদমাধ্যমকে জানান, রুপি যখন মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৯২ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তখন পতনের গতি ধীর করার জন্যই এই হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চড়া মার্কিন শুল্ক ছাড়াও ব্যাপক সংখ্যক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চলে যাওয়া, সোনার মুদ্রা আমদানি বৃদ্ধি এবং রুপির ভবিষ্যৎ নিয়ে করপোরেট উদ্বেগের কারণে মুদ্রাটি চাপের মুখে রয়েছে। এমনকি ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হওয়া এবং সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা সত্ত্বেও এই চাপ কমছে না।

শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইউরো এবং চীনা ইউয়ানের বিপরীতেও রুপির মান ৭.৫ শতাংশ করে কমেছে। ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ডিসেম্বরে রুপির ‘রিয়েল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট’ ছিল ৯৫.৩, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ক্রমবর্ধমান এই প্রতিকূলতা ভারতীয় মুদ্রাকে দিন দিন রিজার্ভ ব্যাংকের বাজার হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিট ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকলেও রুপিতে সমর্থন দেওয়ার এই প্রচেষ্টা অভ্যন্তরীণ ঋণ বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। কারণ বাজার থেকে তারল্য কমে যাওয়ায় বন্ডের মুনাফা বা ইয়েল্ড বেড়ে যাচ্ছে।

বন্ড ইয়েল্ডের ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং মুদ্রার ওপর চাপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে একটি নীতিগত ত্রিমুখী সংকট তৈরি করেছে। যেখানে মুদ্রার মান রক্ষা করা, ঋণের খরচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুঁজির অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হলেও বিশ্ব রাজনীতির শুল্ক নীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চলে যাওয়া রুপির মানকে ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়