শিরোনাম
◈ দেশের ডেটা দেশে রাখার পথে বাংলাদেশ, বাড়ছে সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ◈ নারী এশিয়া কা‌পে আজ রা‌তে শ্রীলঙ্কার মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ◈ রিসোর্ট ভাড়া করে কক্সবাজারে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন নিয়ে কী করছিলেন চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিকেরা? ◈ ম্যানচেস্টার সিটির ক‌ষ্টের জয় ◈ সব ধর‌নের সাম‌রিক সরঞ্জাম ও  প্রযুক্তিতে সজ্জিত শত্রুদের রুখে দিয়েছে ইরান: সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ◈ ২ গোল হজম ক‌রে ৩ গোল দি‌য়ে ‌জিত‌লো ইন্টার মিলান ◈ চল‌তি বছ‌র রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা কম ◈ আ‌র্থিক আয় বাড়া‌তে আমিরাতভিত্তিক স্পনসরশিপ চুক্তির পথে বার্সেলোনা ◈ ইংল‌্যা‌ন্ডে টেস্ট সি‌রি‌জের মাঝে ৭ ক্রিকেটার‌কে দেশে ফেরানোর ব্যাখ্যা দিলেন পাকিস্তান বোর্ডের কর্তা ◈ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে উঠে এলো নতুন তথ্য

প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ দুপুর
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডেঙ্গু জ্বরে যে ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ

রাজধানীতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উৎপাত বেড়েই চলছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। যদিও গতবারের মেয়ররা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ বা মশকনিধনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ দেখালেও মশার কামড় থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে পারেননি। সাধারণত জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর—এই কয়েক মাস ডেঙ্গুর জন্য উচ্চঝুঁকি থাকে।

এই সময়ে বৃষ্টি হয়, মশার প্রজননের জন্যও উপযুক্ত তাপমাত্রা থাকে। সাধারণত মশা প্রজননের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মশাবাহিত অন্য রোগ নিরাময়ে সক্ষম হলেও প্রাণঘাতী ডেঙ্গু নিরাময়ে অক্ষম। কোন শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তার যন্ত্রণা দেখে পিতা-মাতা কতটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া কারও তা উপলব্ধি করার উপায় নেই। তাই ডেঙ্গুতে ভয় খুব বেশিই হয়।

বর্ষা মৌসুম শেষের পথে হলেও থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে বাড়ছে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ। দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণরা। এ বয়সী অনেকেই পরিবারের প্রধান বা একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তাদের অসুস্থতায় পরিবার ও কর্মক্ষেত্র—দুই জায়গাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৮৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪১ হাজার ৩২ জন।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪৯ জন এবং ঢাকার বিভাগের অন্যান্য এলাকায় ১৭৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বরিশালে ১৭১ জন, খুলনায় ১৬৩ জন, চট্টগ্রামে ১২৩ জন, ময়মনসিংহে ৫০ জন, রাজশাহীতে ৪৯ জন এবং রংপুরে ছয়জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তরুণদের আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৬৮ জন। এরপর ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৮১৯ জন। ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ২৬ জন।

মৃত্যুর হিসাবেও তরুণদের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য। ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে মারা গেছেন ১৪ জন। ৪৬ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষম বয়সী মানুষের বড় অংশ প্রতিদিন কর্মস্থল, যাতায়াত ও বিভিন্ন কাজে ঘরের বাইরে সময় কাটান। এ কারণে এডিস মশার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও থাকে। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা, মশার ঘনত্ব ও সংক্রমণের মাত্রাসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখে।

ডেঙ্গুর মৌসুমে বাড়ে ঝুঁকি

সাধারণত বর্ষাকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। বৃষ্টির পর বিভিন্ন পাত্র, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ারসহ নানা স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এডিস মশার প্রজননের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ বিশেষভাবে সহায়ক।

এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশার মাধ্যমে ভাইরাস অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং কখনো কখনো ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দুর্বলতা বা অস্থিরতার মতো বিপজ্জনক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গু হলে কী করবেন

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পানি, ওরস্যালাইন, স্যুপ, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল গ্রহণ করা যেতে পারে। সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর স্বাভাবিক খাবারও খেতে হবে।

জ্বর বা শরীরের ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অবস্থায় অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাকসহ কিছু ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হয়, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা ও সতর্কতার লক্ষণগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অতিরিক্ত পরীক্ষা বা কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

পেঁপে পাতার রস, নিমপাতার রস, বিভিন্ন ভেষজ পানীয় বা নির্দিষ্ট কোনো ফল প্লাটিলেট বাড়িয়ে ডেঙ্গু সারিয়ে দেয়—এমন দাবির নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এসবের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

ডেঙ্গু মশা বা এডিস মশা খালি চোখে দেখা অতি কষ্টকর ব্যাপার। ডেঙ্গু মশা এতোটাই ভয়ঙ্কর যে, এর দংশনে প্রচন্ড কম্প দিয়ে জ্বর উঠে। সহসা জ্বর ছাড়তে চায় না। ক্রমান্বয়ে মানুষ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। মনে হতে পারে যে, ডেঙ্গু মশার মধ্যে জীবাণু রয়েছে। যেমন বিষধর সাপে রয়েছে বিষ। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা কিন্তু তা নয়। মশার নিজের মধ্যে কোন জীবাণু নেই। এটা বাহক মাত্র। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির দেহে দংশন করে জীবাণু সংগ্রহ করে এবং তা অন্যের দেহে ছড়ায়।

শরীর বিজ্ঞানীদের মতে, ডেঙ্গু জ্বর একটা ভাইরাসজনিত রোগ। ভাইরাসের নাম গ্রুপ ‘বি’ আরবো ভাইরাস। এই ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। আরবো ভাইরাস বহনকারী মশার নাম এডিস মশা। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। এই ভাইরাস বহনকারী স্ত্রী জাতীয় এডিস মশা যখন কোন সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ায় তখন তার দেহে এই ভাইরাস প্রবেশ করে এবং ওই ব্যক্তি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। সাধারণত মশা কামড়ানোর ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানোর ৮ থেকে ১২ দিন পর এডিস মশা এই রোগ ছড়াতে পারে এবং এই মশা তার জীবনকালের বাকী সময়ের জন্যও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।

শরীরে লালচে আভা ও ফুসফুড়ি বা র‌্যাশ দেখা যায়। চোখেও লালচে হয়ে যায়। কখনও কখনও শরীরের অভ্যন্তরে অত্যধিক রক্তরণ হয় এবং রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ অবস্থাকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলে। তখন ব্লাড প্রেসার অনেক কমে যায়। রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় শ্বেতকণিকা অনেক কমে গেছে। রক্তের অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেটও অনেক কমে যায়। সাধারণ টিসি, ডিসি পরীক্ষায় এগুলো বোঝা যায়। প্লাটিলেট দেখার সর্বোত্তম পন্থা হলো প্রথমে সেল কাউন্টিং মেশিনে এবং পরে মাইক্রোস্কোপে দেখার ফলাফল তুলনা করা। রক্তে এই ভাইরাস সনাক্ত করার জন্য ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষা করা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। অনেক রোগী না বুঝে ব্যয়বহুল ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষা নিজেরাই করেন। যা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে বা ডেঙ্গু ধরা পড়লে দিনে অন্তত তিন লিটার পানি পান করতে হবে। সেইসঙ্গে খেতে হবে তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, আখের রস ইত্যাদি। সেই সঙ্গে খেতে হবে মাছ ও ডিম, মুরগির মাংস, শাকসবজি। খাবার স্যালাইন পান করুন একটু পরপর।
ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ আটটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি–সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন, ক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন–জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় এ–জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

শর্করা, প্রোটিন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সাধারণ খাবার বন্ধ করা যাবে না। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঘরে বানানো খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করতে হবে। ডেঙ্গু হলে অনেক সময় শরীরে প্রচুর পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ডাবের পানি এক্ষেত্রে অনেক উপকারী হতে পারে। ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট ও পুষ্টি থাকে। লেবুর পানি ভিটামিন সির খুব ভালো উৎস। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে আদা পানি গ্রহণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এটি অনেক ডেঙ্গু রোগীর বমি বমি ভাব মোকাবিলায় সহায়তা করে। কখনও কখনও শরীরের পানিশূন্যতা পূরণে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) গ্রহণের পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। এটি শরীরে অত্যাবশ্যক পটাসিয়াম সরবরাহ করে। পারে।

এডিস মশা থেকে বাঁচতে করণীয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এজন্য সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ি ও আশপাশ ভালোভাবে পরিদর্শন করে কোথাও পানি জমে আছে কি না দেখতে হবে।

ফুলের টব, ফুলদানি, পরিত্যক্ত কৌটা, প্লাস্টিকের পাত্র, টায়ার, ড্রামসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। পানি সংরক্ষণের পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। শুধু পানি ফেলে দিলেই হবে না; পাত্রের গায়ে আটকে থাকা মশার ডিমও ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।

নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্ট, লিফটের গর্ত, পানির চৌবাচ্চা, ড্রাম ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আশপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার রাখাও জরুরি।

দিনের বেলায় এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে ফুলহাতা পোশাক পরা, পা ঢেকে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। ঘরের দরজা-জানালায় নেট ব্যবহার এবং ঘুমানোর সময় প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি ব্যবহার করা উচিত।

  • সর্বশেষ