মনিরুল ইসলাম : চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার নতুন সিনেমা ‘লজ্জা’র শুটিং ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে শুটিং কাভার করতে গিয়ে প্রত্যাশিত সাক্ষাৎকার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিনোদন সাংবাদিকদের অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার ও প্রযোজক আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে দিয়াবাড়িতে সিনেমাটির শুটিং স্পটে উপস্থিত হন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। সেখানে নুসরাত ফারিয়া ও প্রযোজক আবদুল আজিজের সঙ্গে কথা বলার প্রত্যাশা ছিল তাঁদের। তবে শেষ পর্যন্ত ফারিয়ার সাক্ষাৎকার না পাওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়।
কী ঘটেছিল দিয়াবাড়িতে?
শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের শনিবার সকাল ৮টায় শুটিং স্পটে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান আবদুল আজিজ। সেখানে সিনেমার শুটিং কাভার করার পাশাপাশি শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকবে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে সাংবাদিকেরা উপস্থিত হন।
কিন্তু শুটিংয়ের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিস্থিতি তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। অভিযোগ উঠেছে, সাংবাদিকদের দিয়ে সিনেমার একটি দৃশ্য ধারণ করা হলেও তাঁদের প্রত্যাশিত সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা হয়নি।
একপর্যায়ে নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি পেটের অসুস্থতার কথা জানান। পরে তিনি শুটিং স্পট ছেড়ে চলে যান।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহের জন্য সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে শুটিং স্পটে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুত সাক্ষাৎকার না পাওয়া হতাশাজনক।
ফেসবুকে ফারিয়ার বক্তব্য
ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর নিজের ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বার্তা দেন নুসরাত ফারিয়া। তিনি বলেন, কোনো প্রযোজক, পরিচালক কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শুটিং চলাকালে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাওয়ার আগে আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
ফারিয়ার বক্তব্য, সাংবাদিকদের ক্যামেরা, বুম ও পরিচয় ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের প্রচার বাড়াতে চাইছেন কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি যে শিল্পীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তাঁর সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অভিনেত্রীর মতে, শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকা একজন শিল্পীর সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়টি আলাদা। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিল্পীর সম্মতি ও প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, কোনো ঘটনার একটি পক্ষের বক্তব্য শুনেই পুরো বিষয়টিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ঘটনার আড়ালে থাকা বাস্তবতাও যাচাই করা প্রয়োজন।
কী বললেন আবদুল আজিজ?
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবদুল আজিজ স্বীকার করেন, নুসরাত ফারিয়ার কাছ থেকে আগে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সম্মতি নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, শুটিং স্পটে সাংবাদিকেরা এলে শিল্পীরা সাধারণত কথা বলেন—এমন ধারণা থেকেই তিনি বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করেননি।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার এই কর্ণধার। তবে সিনেমাটির প্রচার বাড়ানোর উদ্দেশ্যও এই আয়োজনের পেছনে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানোর আগে সাক্ষাৎকারের বিষয়টি নিশ্চিত না করায় যে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
‘লজ্জা’ সিনেমায় ফারিয়ার সঙ্গে বাঁধন
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে ‘লজ্জা’। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন এম এইচ খোকন। এর গল্প লিখেছেন আবদুল আজিজ।
ছবিটিতে নুসরাত ফারিয়ার পাশাপাশি অভিনয় করছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সমাজসচেতনতামূলক গল্পের এই সিনেমা ঘিরে শুরুতে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হলেও শুটিং স্পটে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ ও সাক্ষাৎকার না দেওয়ার ঘটনাটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পেশাদার সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মানের প্রশ্ন
বিনোদন অঙ্গনে নতুন সিনেমার প্রচার, শুটিং কাভারেজ এবং শিল্পীদের সাক্ষাৎকারের জন্য সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো পরিচিত একটি চর্চা। এ ধরনের আয়োজনে আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য ও সাক্ষাৎকারের বিষয়টি আগে থেকে স্পষ্ট করা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
অন্যদিকে, কোনো শিল্পীর সাক্ষাৎকার দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ঘটনায় সাংবাদিকদের সময় ও পেশাগত দায়িত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, ‘লজ্জা’র শুটিং ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক চলচ্চিত্র অঙ্গনে গণমাধ্যম ও শিল্পীদের পেশাদার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।