মনিরুল ইসলাম : মিডিয়ায় টিকে থাকার লড়াই ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে—এমন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে হতাশা প্রকাশ করেছেন শিল্পী রিমু রোজা। কাজের সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও বয়সজনিত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মিডিয়ায় মাসিগিরি করতে পারব না, বুড়া হয়ে গেছি—এই দেশে কিভাবে বাঁচব?”
সম্প্রতি এক কথোপকথনে রিমু রোজা জানান, গত সাত মাসে তিনি মাত্র ১১ দিন কাজ পেয়েছেন। নিয়মিত কাজের অভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “বাসা ভাড়া দিতেই হিমশিম খাচ্ছি, কীভাবে খাব—সেটাই বুঝতে পারছি না।”
তার এই বক্তব্যে দেশের মিডিয়া অঙ্গনে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা ও শিল্পীদের আর্থিক সংকটের চিত্র আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে মধ্যম ও প্রবীণ শিল্পীদের জন্য কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। নতুন মুখের ভিড়ে অভিজ্ঞ শিল্পীরা অনেক সময় কাজ থেকে ছিটকে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাটক ও বিজ্ঞাপন খাতে বাজেট কমে যাওয়া, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্টের ধরণ পরিবর্তন এবং প্রযোজনা কমে যাওয়ায় শিল্পীদের কাজের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি তাদের জীবিকায়।
রিমু রোজার মতো অনেক শিল্পীই এখন নিয়মিত আয়ের বাইরে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। তাদের জন্য কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, শিল্পীদের জন্য একটি সুসংগঠিত কল্যাণ তহবিল, নিয়মিত কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নতুবা অভিজ্ঞ শিল্পীদের বড় একটি অংশ ধীরে ধীরে এই অঙ্গন থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, রিমু রোজা খন্দকার বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী। রিমু রোজা খন্দকারের মায়ের নাম টিনা খান (প্রিন্সেস টিনা খান), যিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও প্রযোজক।মায়ের পরিচয়ের বাইরে ময়না সুন্দরী রিমু তিনি নিজের মেধা ও সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে মিডিয়ায় নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছেন।