রংপুরের পীরগঞ্জে পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা বাড়ছে। একসময় পাট কাটার পর জমিতেই পড়ে থাকা কিংবা অল্প দামে বিক্রি হওয়া পাটকাঠি এখন গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। শুধু তাই নয় চাষিরা পটোল, শসাসহ বিভিন্ন সবজির জাংলা জন্য পাটকাঠির ব্যবহার করে থাকেন। রান্নার কাজে কাঠের পাশাপাশি পাটকাঠি ব্যবহার করায় এর চাহিদা তৈরি হয়েছে।
শুধু তাই নয় চাষিরা পটোল, শসাসহ বিভিন্ন সবজির জাংলা জন্য পাটকাঠির ব্যবহার করে থাকেন। পাট চাষিদের কাছে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের একটি উৎস। মৌসুমে পাটের চেয়ে পাট কাঠির চাহিদা প্রচুর। পাট কাটার পর কৃষকেরা পাটকাঠিগুলো জমি থেকে সংগ্রহ করে আঁটি বেঁধে বিভিন্ন জায়গায় শুকিয়ে রাখেন। ভালোভাবে শুকানোর পর এসব পাটকাঠি রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গ্রামের অনেক পরিবার নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত পাটকাঠি বিক্রিও করে থাকেন।
স্থানীয়ভাবে দেখা যায়, কৃষকেরা পাটকাঠি পরিষ্কার করে ছোট-বড় আঁটি তৈরি করে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে কিংবা খোলা জায়গায় শুকিয়ে রাখছেন। শুকিয়ে যাওয়ার পর সেগুলো সংরক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার অনেক কৃষক স্থানীয় বাজারে কিংবা পরিচিত ক্রেতাদের কাছে পাটকাঠি বিক্রি করছেন।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের পাট চাষি এনামুল মিয়া এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জ্বালানি হিসেবে পাটকাঠির ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হলো এটি সহজে সংগ্রহ করা যায় এবং পাট চাষের উপজাত হিসেবেই পাওয়া যায়। পাট থেকে আঁশ সংগ্রহের পর যে কাঠি পড়ে থাকে, তা ফেলে না দিয়ে জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব। এতে একদিকে কৃষকের বাড়তি আয় হচ্ছে, অন্যদিকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এর ব্যবহারও বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাটকাঠি শুকিয়ে সংরক্ষণ করা সহজ। বর্ষা মৌসুমে কিংবা বাজারে জ্বালানি কাঠের দাম বাড়লে অনেক পরিবার আগে থেকে সংরক্ষণ করা পাটকাঠি রান্নার কাজে ব্যবহার করে। ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলোর কাছে পাটকাঠির গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে।
পাটকাঠি শুধু জ্বালানি হিসেবেই নয়, গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন কাজেও ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এর ব্যবহারই বেশি চোখে পড়ছে। পাটকাঠির চাহিদা থাকায় কৃষকেরা পাট কাটার পর কাঠিগুলো যত্ন করে শুকিয়ে মজুদ করে রাখেন।
কৃষকেরা বলছেন, পাটের প্রধান উৎপাদন হচ্ছে আঁশ। তবে পাটকাঠি থেকে যদি ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে পাট চাষে তাদের লাভের পরিমাণ কিছুটা বাড়ে। তাই পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিকেও কৃষকেরা এখন আর ফেলনা হিসেবে দেখছেন না।
অনেক সময় পাটের বাজার কম হলেও চাষিরা পাট চাষ থেকে সরে আসেন না, কারন পাটের চেয়ে পাটকাঠির কৃষি ফসলের চাষে ব্যপক হারে প্রয়োজন পরে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে পাটের গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠির ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ায় পাট চাষিদের জন্য এটি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করছে। ফলে পাটকাঠি এখন আর শুধু পাট চাষের পর পড়ে থাকা অবশিষ্ট অংশ নয়; জ্বালানি হিসেবে এরও রয়েছে আলাদা বাজার ও ব্যবহার।