মনিরুল ইসলাম : দেশের সংগীত অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে যে লাইভ কনসার্ট সংস্কৃতি শিল্পীদের প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল, সাম্প্রতিক সময়ে সেই কনসার্ট আয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন বাদ্যশিল্পীরা। আয় কমে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরে যাচ্ছেন বা পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।
সংগীত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করপোরেট শো, বিশ্ববিদ্যালয় অনুষ্ঠান, ক্লাব কনসার্ট—সব মিলিয়ে আগে যেখানে মাসজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করতেন শিল্পীরা, এখন সেখানে কাজের পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে নিয়মিত আয় না থাকায় জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে।
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া (Zakiya Sultana Kornia) বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে বলেন, কনসার্ট কমে যাওয়ায় অনেক বাদ্যশিল্পী অর্থকষ্টে পড়েছেন। তাদের অনেকেই রাজধানীতে টিকে থাকতে না পেরে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি সংগীত জগতের জন্য অশনিসংকেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাদ্যযন্ত্রীদের একটি বড় অংশ জানান, কনসার্ট কমে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে—অর্থনৈতিক চাপ, আয়োজনের খরচ বৃদ্ধি, স্পন্সর সংকট, এবং কিছু ক্ষেত্রে অনুমতির জটিলতা। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংগীত শোনার প্রবণতা বাড়ায় লাইভ পারফরম্যান্সের চাহিদাও কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর কয়েকজন পেশাদার গিটারিস্ট ও ড্রামার জানান, আগে সপ্তাহে ৩–৪টি শো করলেও এখন মাসে ১–২টি কাজ পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে বাসাভাড়া, যাতায়াত ও দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ টিউশনি বা অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
সংগীতাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের লাইভ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। নতুন প্রতিভারা নিরুৎসাহিত হবে এবং দক্ষ বাদ্যশিল্পীর ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিল্পীরা সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত কনসার্ট আয়োজন, উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি এবং শিল্পীদের জন্য আর্থিক সহায়তা বা তহবিল গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগীত বিশ্লেষকদের মতে, লাইভ মিউজিক সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি—নইলে ধীরে ধীরে এই শিল্পখাত তার প্রাণশক্তি হারাতে পারে।