মনিরুল ইসলাম : শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার হলে দুই দেশের অংশীদারিত্ব, কর্মসংস্থান এবং পেশাগত সম্ভাবনা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাত্ত্বিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে কাজ করছে।
চীনের গুয়াংডংয়ে অনুষ্ঠিত “কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন” শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং শিল্প-শিক্ষা সমন্বয়ের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে মান্দারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আধুনিক কর্মক্ষেত্রে নিজেদের উপযোগী করে তুলতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষক বিনিময়, শিক্ষার্থী বৃত্তি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা হলে শিক্ষা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এই সহযোগিতা দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ফিনটেক এবং আধুনিক লজিস্টিকস খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই। চীনের উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুগোপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
তিনি জানান, দুই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, যৌথ গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে স্কলারশিপের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, চীনা শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের কারিগরি পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন করা হবে। যৌথ সার্টিফিকেশন চালু এবং শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করেই কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিক্স এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ল্যাব ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, কারিগরি শিক্ষার আধুনিকীকরণে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত শিক্ষা অপরিহার্য।
সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এছাড়া চীনের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পোদ্যোক্তারা অংশ নেন।
চীনের ১১টি শীর্ষ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কলেজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সিম্পোজিয়ামে “চায়নিজ + ভোকেশনাল স্কিলস” ইন্ডাস্ট্রি-এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন অ্যালায়েন্স চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়, যা কারিগরি শিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
শেষে উভয় দেশ কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ জোরদার করে তা টেকসই অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।