তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য হিন্দুত্ববাদী কঙ্গনা রনৌত এবং যোগ গুরু বাবা রামদেব। কঙ্গনার অতীত ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাবা রামদেবের কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাকে নিজের চরিত্র নিয়ে শিক্ষা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে কঙ্গনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেন তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কেউ কল্পনা না করেন।
সম্প্রতি দিল্লির নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে হওয়া আন্দোলনকারীদের একাংশকে 'জেন-জি গটার' বা 'প্রজন্মের আবর্জনা' বলে মন্তব্য করেছিলেন কঙ্গনা। কঙ্গনার এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বাবা রামদেব প্রশ্ন তোলেন, "তার অতীত এবং যৌবন কেমন ছিল?" এর পাশাপাশি রামদেব মন্তব্য করেন, এই ধরনের কথা কোনো 'বিকৃত' মানসিকতার পরিচয় দেয়।
রামদেবের এই সমালোচনার জবাবে ইনস্টাগ্রামে একটি সংবাদের স্ক্রিনশট শেয়ার করে কঙ্গনা লেখেন, "বাবাজী, আমার যৌবন বা বেডরুম নিয়ে মিছামিছি দিবা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন। গুঞ্জন আর গুজবের ওপর ভিত্তি করেই শুধু এমন অনুমান করা সম্ভব।"
নিজের অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে কঙ্গনা পতঞ্জলির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের মামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, "অন্তত আমাকে কখনো সুপ্রিম কোর্ট থেকে কোনো ভুয়া বা জালিয়াতির দাবির জন্য তিরস্কার শুনতে হয়নি। আমার এই বক্তব্য কোনো গুজব বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং কঠিন সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।"
যোগ গুরুকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, "আমাকে চরিত্রের পাঠ দিতে আসবেন না। আপনার চেয়ে আমার চরিত্র অনেক ভালো, কারণ এখানে কোনো জালিয়াতি বা জালিয়াতির প্রমাণ মেলেনি।"
এর আগে আন্দোলনকারীদের নিয়ে করা মন্তব্যেরও সাফাই দেন ব্যাপক বিতর্কিত এই বিজেপি এমপি। তিনি দাবি করেন, তিনি পুরো তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে এই কথা বলেননি। কঙ্গনার মতে, "আমি কি বলেছি সব তরুণ সমাজই ডাস্টবিনের অংশ? আমি নির্দিষ্ট কিছু মানুষ বা নারীর কথা বলেছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণদের একাংশ মাদক, বাজি, জুয়া এবং ডার্ক ওয়েবের মতো অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা প্রয়োগ করার কারণেই তিনি এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন।
বর্তমানে নেটদুনিয়ায় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বাবা রামদেব ও কঙ্গনা রনৌতের এই বাকযুদ্ধ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।