খাওয়ার পর শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, তা স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই খাবার খাওয়ার পর অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে ভারি খাবার খাওয়ার পর বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে সেটিকে শুধু পেট ভরা বা বদহজমের স্বাভাবিক সমস্যা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের পর বুকে ব্যথা কখনো কখনো হৃদ্রোগের সতর্ক সংকেতও হতে পারে। বিএম হার্ট হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. সব্যসাচী পাল জানিয়েছেন, বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
কেন বুকে ব্যথা হতে পারে?
অনেকেই খাবার খাওয়ার পর বুকে অস্বস্তি হলে সেটিকে অ্যাসিডিটি, বদহজম বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু সব সময় এর কারণ হজমের সমস্যা নাও হতে পারে।
ডা. সব্যসাচী পাল বলেন, অ্যাসিডিটি, বদহজম বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স ভেবে অনেকে ব্যথা কমার অপেক্ষা করেন। কিন্তু কখনো কখনো অ্যাসিডিটির মতো অনুভূত হওয়া ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।
তাই এমন ব্যথা হলে নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়া বা ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের লক্ষণ কী?
অ্যাসিড রিফ্লাক্স হলে সাধারণত বুকে জ্বালাপোড়ার পাশাপাশি কিছু হজমজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—মুখে টক স্বাদ, গলা পর্যন্ত অ্যাসিড উঠে আসা এবং ঢেকুর ওঠা। এসব লক্ষণ থাকলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সম্ভাবনা বেশি।
তবে বুকে তীব্র ব্যথা হলে শুধু অ্যাসিডিটির সমস্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ একই ধরনের অস্বস্তি হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের সতর্ক সংকেত
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, হার্ট অ্যাটাক হলে বুকে চাপ, টান, ভারী অনুভূতি বা অস্বস্তি হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে উপসর্গ একই রকম নাও হতে পারে।
বুকে অস্বস্তির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই ভারী খাবার খাওয়ার পর বুকে ব্যথা হলে সেটিকে শুধু গ্যাস বা অ্যাসিডিটি ভেবে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।