শিরোনাম
◈ একদিনে শাহজালালে চার ফ্লাইটে অভিযান, যাত্রীদের ব্যাগে যা পাওয়া গেলো ◈ মির্জা ফখরুলের স্থলে কে হচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব? ◈ দেশের প্রতিটি খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে : আইনমন্ত্রী ◈ অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ◈ ম্যারাডোনার সতীর্থ কিংবদন্তি ফুটবলার ক্যানেজিয়া ঢাকায় আসছেন ◈ কোন প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে সেটা ভারতের সিদ্ধান্ত : চিফ প্রসিকিউটর ◈ জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধানে সময় লাগবে দুই বছর: আমির খসরু ◈ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত : ইন্ডিয়ান এক্স‌প্রেসের প্রতি‌বেদন ◈ গ্রিসের পথে নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট, সাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির ◈ ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শৈশবে কম চিনি খেলে ভবিষ্যতে কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

‘নিউরোলোজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, গর্ভাবস্থায় এবং জীবনের প্রথম দুই বছরে কম চিনি গ্রহণের সঙ্গে বয়স বাড়ার পর ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকতে পারে। 

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক জিয়াজেন ঝেং-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও তার পর যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৪ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। মূলত ১৯৫৩ সালে যুক্তরাজ্যে সরকারের চিনি বরাদ্দ বা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার আগের ও পরের সময়কালের ওপর ভিত্তি করেই এই বিশ্লেষণটি চালানো হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গর্ভকালীন সময় থেকে জীবনের প্রথম এক বছর যাদের চিনি গ্রহণের পরিমাণ কম ছিল, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ২১ শতাংশ কম দেখা গেছে। এই কম চিনি খাওয়ার অভ্যাস জীবনের প্রথম দুই বছর বজায় রাখা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। 

পাশাপাশি শৈশবে কম চিনি গ্রহণ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া প্রকাশ পাওয়ার গড় সময়ও অন্যদের চেয়ে প্রায় আড়াই বছর পিছিয়ে গেছে। এতে গবেষকরা ধারণা করছেন যে, জীবনের শুরুতে খাদ্যাভ্যাসে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এই গবেষণার ফলাফলের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হতে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টাফটস ইউনিভার্সিটির ‘ফুড অ্যান্ড মেডিসিন ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক দারিউশ মোজাফফারিয়ান জানান, এই গবেষণাটি কেবল একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়, এটি সরাসরি চিনি কমানোর সুনির্দিষ্ট ফলাফল হিসেবে প্রমাণিত নয়। রেশনিং ব্যবস্থা থাকা ও না থাকার ওপর ভিত্তি করে তৎকালীন মানুষের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, ক্যালরি গ্রহণ ও পুষ্টির অন্যান্য উপাদানেও অনেক ফারাক ছিল, যার ফলে কেবল চিনির প্রভাব এককভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। 

এ অবস্থায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গর্ভবতী নারী ও শিশুদের খাবারের ক্ষেত্রে কেবল চিনি কমানোর দিকে নজর না দিয়ে সার্বিক সুষম খাদ্যাভ্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রক্রিয়াজাত অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার পরিহার করে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বাদাম ও তাজা মাছের মতো পুষ্টিকর খাদ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

গবেষকরা নিজেরাও স্বীকার করেছেন যে ব্যক্তির নিজস্ব চিনি পরিমাপ না করে ঐতিহাসিক রেশনিং ডেটার ওপর নির্ভর করায় অন্যান্য সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত কারণও এই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, যা প্রমাণের জন্য ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

সূত্র : যুগান্তর 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়