শিরোনাম
◈ শান্তি-শৃঙ্খলা ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী ◈ একদিনে শাহজালালে চার ফ্লাইটে অভিযান, যাত্রীদের ব্যাগে যা পাওয়া গেলো ◈ মির্জা ফখরুলের স্থলে কে হচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব? ◈ দেশের প্রতিটি খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে : আইনমন্ত্রী ◈ অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ◈ ম্যারাডোনার সতীর্থ কিংবদন্তি ফুটবলার ক্যানেজিয়া ঢাকায় আসছেন ◈ কোন প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে সেটা ভারতের সিদ্ধান্ত : চিফ প্রসিকিউটর ◈ জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধানে সময় লাগবে দুই বছর: আমির খসরু ◈ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত : ইন্ডিয়ান এক্স‌প্রেসের প্রতি‌বেদন ◈ গ্রিসের পথে নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট, সাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির

প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪৪ বিকাল
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গর্ভবতী মায়েদের জন্য সরকারি ভাতা: কারা পাবেন, আবেদন করবেন যেভাবে

দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের গর্ভবতী মায়েদের জন্য গর্ভাবস্থা ও শিশুর লালনপালনে সহায়তা হিসেবে ২০১১ সাল থেকে মাতৃত্বকালীন ভাতা চালু করেছে সরকার। এ ভাতা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প, যা ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ নামে চালু রয়েছে। তবে এ ভাতা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পাওয়া যায়।

শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, গর্ভবতী মা ও শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্য, যত্ন এবং শিশুর প্রাথমিক বিকাশে সহায়তা করাও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

কত টাকা পাওয়া যায়?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় মাসিক ভাতার হার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করা হয়েছে। নির্বাচিত উপকারভোগীরা সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত এ সহায়তা পেতে পারেন। অর্থাৎ পুরো ৩৬ মাস মাসিক ৮৫০ টাকা করে পেলে একজন উপকারভোগী মোট ৩০ হাজার ৬০০ টাকা পাবেন।

বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী মায়াদের এ কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হওয়ার শর্ত রয়েছে।

কারা ভাতা পেতে পারেন বা শর্তাবলী

গর্ভবতী ভাতার আবেদনে কি কি কাগজপত্র লাগে? –মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান কর্মসূচিতে আবেদনের যোগ্যতা অনুসারে

প্রথম শর্ত হল মহিলা নাগরিকের বয়স ২০-৩৫ বছর হতে হবে। 
জন্মসনদ দিয়ে আবেদন করা যাবে না তাই এন আই ডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। 
প্রথম অথবা দ্বিতীয় গর্ভবস্থায় আবেদন করা যাবে। তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে আবেদন করা যাবে না। 
নিজ নামে পছন্দসই অনলাইন/মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট যেমন-নগদ বা বিকাশ থাকতে হবে। 
পারিবারিক মাসিক আয় সর্বোচ্চ ৮০০০ টাকার বেশি হওয়ার যাবে না। 
দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্ত্বকাল ভাতা মঞ্জুরীর আবেদন ফরম (নতুন)গর্ভধারণ কিট

এ ছাড়া স্থানীয় সরকারি নির্দেশনায় আবেদনের সময় নির্দিষ্ট সময়ের গর্ভাবস্থায় থাকার শর্তও থাকতে পারে। তাই শুধু গর্ভবতী হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতা পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর যোগ্যতা, স্থানীয় বরাদ্দ এবং যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়।

অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
মাতৃত্বকালীন ভাতা বা বর্তমানে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’-র জন্য সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এমআইএস পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন করতে প্রথমে অনলাইন আবেদন লিংক-এ প্রবেশ করে নতুন আবেদন ফরমটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও সঠিক তথ্য দিয়ে ধাপে ধাপে পূরণ করে জমা দিতে হবে।

স্বামী বা স্ত্রীর ইউনিয়ন পরিষদ হতে আবেদন করতে হবে? হ্যাঁ। আপনি বা মহিলা যে স্থানের নাগরিক বা ভোটার সেই ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন হতে আবেদন করতে হবে।  নাগরিক হউননি এমন কেউ শিশু ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা বা গর্ভবতীয় ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আপনি নিজে অনলাইনে বা ইউনিয়ন বা উপজেলা উদ্যোক্তার মাধ্যমে আবেদন দাখিল করতে পারবেন। 

আবেদন করলেই কি ভাতা নিশ্চিত?

না। অনলাইনে আবেদন করলেই কেউ সরাসরি ভাতাভোগী হয়ে যান না।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের MIS ব্যবস্থায় আবেদন গ্রহণের পর প্রাথমিক বাছাই, তথ্য যাচাই, ডাবল-ডিপিং যাচাই, অগ্রাধিকার নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে যাচাই এবং চূড়ান্ত বাছাইয়ের মতো ধাপ রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের ভাতাভোগী হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

কীভাবে ভাতা পাবেন?

বর্তমান ব্যবস্থায় উপকারভোগীর নিজস্ব আর্থিক হিসাবে ভাতার অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

তাই অন্য কারও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করে নিজের NID-সংযুক্ত MFS বা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করাই নিরাপদ।

কোথায় আবেদন করবেন?

মাতৃত্বকালীন ভাতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন লিংক ছড়িয়ে পড়লেও সব লিংক ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র আবেদন পোর্টাল নয়।

বিশেষ করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা আবেদনের MIS এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র MIS আলাদা। তাই ফেসবুক বা অন্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া লিংকে NID বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সেটি সরকারি ওয়েবসাইট কি না নিশ্চিত হওয়া জরুরি। আবেদনের বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করাও নিরাপদ পদ্ধতি।

কী কী তথ্য লাগতে পারে?

মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা, গর্ভাবস্থার মেডিকেল রিপোর্ট, ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্যসহ পরিবার ও আর্থিক অবস্থার তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য নিজের—

জাতীয় পরিচয়পত্র;
মোবাইল নম্বর;
নিজের নামে NID-সংযুক্ত MFS বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। এসব তথ্যসহ নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে অনলাইনে বা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলরের অফিসে জমা দিতে হবে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা যাচাই ও অনুমোদন করলে ভাতা প্রদান করা হয়।

যেভাবে আবেদন করবেন

ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে অনলাইন আবেদন লিংক-এ যান।
নতুন আবেদন সিলেক্ট: “নতুন আবেদন (New Application)” অপশনটি বেছে নিন।
তথ্য প্রদান: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর, জন্মতারিখ এবং নিজের সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে ফরমটি খুলুন ও নাম, ঠিকানা ইত্যাদি পূরণ করুন।
অন্যান্য তথ্য: গর্ভকালীন সময় বা সন্তানের বয়স এবং আর্থিক অবস্থা সম্পর্কিত বাকি ঘরগুলো পূরণ করুন।
সাবমিট: সমস্ত তথ্য ঠিক আছে কি না তা যাচাই করে Submit বাটনে ক্লিক করুন।

পাশাপাশি ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত।

প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন

মাতৃত্বকালীন ভাতার নামে কেউ আবেদন করে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে বা ভাতা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকতে হবে।

এ ছাড়া কেউ যদি—

OTP চায়;
NID-এর ছবি বা তথ্য নিজের ফোনে রাখতে চায়;
নিজের MFS অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলে;
ভাতা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করে;

তাহলে তার সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন না করাই নিরাপদ।

উল্লেখ্য, অর্থ অভাবে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ যাতে ব্যাহত না হয় তারই ধারাবাহিকতায় সরকার গর্ভবতী মায়ের জন্য সরকারি ভাতা প্রদানের প্রচলন করেন। বাংলাদেশ সরকার মাসিক ৮০০/- হারে প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর করে ৪ বার বা ২৪ মাস ভাতা প্রদান করে থাকে। যদি আপনি এ ভাতা প্রাপ্য বা ভাতার প্রাপ্তির যোগ্য হয়ে থাকে তবে এ পোস্টটি আপনার জন্য। নিচের তথ্যগুলো ভাল ভাবে জেনে বুঝে ইউনিয়য়ন পরিষদে আবেদনের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে পারেন-গর্ভবতী মায়ের সরকারি ভাতা ২০২৬।

সরকারি কর্মসূচির তথ্য জানতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও স্থানীয় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় ১৬ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৯ জন উপকারভোগীকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়