দেশের প্রতিটি খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।
রবিবার দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির দশতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি খুনের বিচার হবে, এই বাংলাদেশের প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে। সেই বিচারের পথ ধরে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। সেই বিচার কোনো গোপন বিচার হবে না, ন্যায়বিচার হবে। বিগত ১৭ বছরে বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা-গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। যে মামলার আসামির তালিকায় এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি ২০ বছর আগে মারা গেছেন, এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি পবিত্র কাবা শরীফে হজে ছিলেন, তাদের গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, সমস্ত বাধার প্রাচীর পেরিয়ে জেন-জি জেনারেশন, এই প্রজন্ম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যে নামেই আমরা ডাকি না কেন, আমাদেরকে এমন একটি বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছে, যে বাংলাদেশ পেতে আমাদের মাঝ থেকে ১৪০০ মানুষকে হারাতে হয়েছে, যাদেরকে পাখির মতো গুলি করে রাজপথে হত্যা করা হয়েছে। এদের রক্তের বিনিময়ে, এদের ত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, এই বাংলাদেশ নিয়ে আমরা ছেলেখেলা করতে পারি না। এই বাংলাদেশ নিয়ে আমরা আর ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার কোনো পথ সুগম করতে পারি না। আমরা যদি ব্যর্থ হই, কাপুরুষের রূপ ধরে বেঁচে থাকব।
মন্ত্রী বলেন, ভোটের মাঠে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকদের জন্য মাসিক ভাতার কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই বছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশে ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমনসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।