শিরোনাম
◈ ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু ◈ যেকোনো মুহূর্তে পে স্কেল ঘোষণা হতে পারে: মুখ্যসচিব ◈ স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন কাবার ইমাম ◈ স্টুডেন্ট ভিসা শেষে ফিরতে হবে নিজ দেশে, জানালেন আলবার্টার প্রিমিয়ার ◈ বিগত সময়ে দেশের উন্নয়ন হলে এ অবস্থা কেন: প্রধানমন্ত্রী ◈ ও বাংলাদেশের ছেলে, হি রিপ্রেজেন্টস বাংলাদেশ, নট বগুড়া: ভিডিও কলে তানজিদকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ◈ তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে সহায়ক পরিবেশ চায় বাংলাদেশ, হাসিনাসহ পলাতকদের ফেরত চায় ঢাকা ◈ রূপালী ব্যাংকে ৪৮৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে ◈ ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর ভিডিও কলে টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী ◈ আ‌মে‌রিকার বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর দুরবস্থার জন্য ইরান দায়ী

প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:২৬ দুপুর
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঝুঁকি জেনেও কেন পুরুষেরা লি.ঙ্গে.র আকার বাড়াতে ফিলার নিচ্ছেন, কতটা নিরাপদ এই পদ্ধতি?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন।। পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গের আকার বাড়াতে ফিলার নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ধরনের ফিলার ব্যবহার করে লিঙ্গের পরিধি বাড়ানোর এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে আকার পরিবর্তনের সুযোগ দিলেও এর সঙ্গে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকদের কেউ কেউ বলছেন, এ ধরনের প্রক্রিয়ার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ম্যানচেস্টারের জেসন নামের এক ব্যক্তি লিঙ্গের দৈর্ঘ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও পরিধি কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার পর তিনি অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার বেছে নেন।

ফিলার নেওয়ার পর তার লিঙ্গের পরিধি প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। জেসনের দাবি, এতে তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং স্বাভাবিক যৌন কার্যক্রমেও কোনো সমস্যা হয়নি। তার ভাষায়, তিনি শুধু কিছুটা বাড়তি প্রস্থ চেয়েছিলেন, বড় ধরনের পরিবর্তন নয়।

জেসনের মতো কতজন পুরুষ এ ধরনের ফিলার নিচ্ছেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব নেই। কারণ বিষয়টি ব্যক্তিগত এবং এই সেবার ওপরও আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ সীমিত।

কেন ফিলার নিচ্ছেন পুরুষেরা?

জেসনের মতে, পুরুষদের ক্ষেত্রেও সৌন্দর্য ও শারীরিক গঠনের সামাজিক প্রত্যাশা বদলে গেছে। গণমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পর্নোগ্রাফিতে আদর্শ শরীরের যে ধারণা তৈরি হয়, তা অনেক পুরুষের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

লিঙ্গের আকার নিয়ে উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ক্লিনিকও তাদের সেবার প্রচার করে থাকে। কোথাও কোথাও সম্ভাব্য গ্রাহকদের সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, তারা নিজেদের লিঙ্গের আকার নিয়ে বিব্রত কি না।

চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের প্রচারণা কখনো কখনো মানুষের ব্যক্তিগত অনিরাপত্তাবোধকে কাজে লাগাতে পারে।

কীভাবে দেওয়া হয় ফিলার?

লিঙ্গের পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদানগুলোর একটি হলো হায়ালুরোনিক অ্যাসিড। এটি শরীরে স্বাভাবিকভাবেই থাকা একটি শর্করা অণু, যা পানি ধরে রাখার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কসমেটিক ফিলার হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের চিকিৎসক ডা. জাভেদ হুসেইন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লিঙ্গে ফিলার দেওয়ার কাজ করছেন। তার দাবি, এ ধরনের চিকিৎসার চাহিদা বাড়ছে এবং বিভিন্ন বয়সী পুরুষ তার কাছে আসছেন। তার সবচেয়ে বয়স্ক রোগীর বয়স ছিল ৭২ বছর।

প্রক্রিয়ার আগে রোগীর স্বাস্থ্য, কেন তিনি এটি করতে চান, প্রত্যাশিত ফলাফল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর সাধারণত লিঙ্গের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে ক্যানুলার মাধ্যমে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড প্রবেশ করানো হয়। পরে ফিলার সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে ম্যাসাজ করা হয়।

এই প্রক্রিয়ায় খরচ সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। এক পাউন্ড ১৬৬ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকারও বেশি।

ডা. হুসেইনের মতে, এতে ছয় থেকে নয় মাসের জন্য প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পরিধি বাড়তে পারে।

কী কী ঝুঁকি রয়েছে?

ফিলার নেওয়ার পর ব্যথা, কালশিটে দাগ এবং ফিলার অসমভাবে ছড়িয়ে পড়ার মতো তুলনামূলক কম গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এর পাশাপাশি সংক্রমণের মতো গুরুতর জটিলতার আশঙ্কাও রয়েছে।

আরও বড় ঝুঁকি হলো লিঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ গঠন ও রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এতে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ডা. হুসেইন এমন এক রোগীর কথা জানিয়েছেন, যিনি অন্যত্র ফিলার নেওয়ার পর গুরুতর সমস্যায় পড়েছিলেন। তার ক্ষেত্রে ভুল ধরনের ফিলার ব্যবহারের কারণে লিঙ্গ কালো হতে শুরু করে এবং ত্বকের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে তাকে জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়।

তবে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কত, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান নেই।

ব্যর্থ অস্ত্রোপচারে তীব্র ভোগান্তি

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের অ্যান্ড্রোলজিস্ট ও পরামর্শক ইউরোলজিক্যাল সার্জন অধ্যাপক বৈভব মোদগিল এমন রোগীও দেখেছেন, যারা লিঙ্গের আকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তিনি জানান, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ত্বকের নেক্রোসিস হয়েছে। অর্থাৎ রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ত্বকের কিছু অংশ মারা গেছে এবং পরে তা কালো হয়ে খসে পড়তে শুরু করেছে।

মোদগিলের ভাষায়, রোগীরা হয়তো ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়ে এসব প্রক্রিয়া করান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ আগের চেয়েও বেশি অসন্তুষ্ট হয়ে পড়তে পারেন।

অ্যালেক্স নামের এক ব্যক্তি লিঙ্গের আকার পরিবর্তনের জন্য জার্মানিতে একটি অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। এতে লিঙ্গকে শরীরের সঙ্গে যুক্ত রাখা একটি লিগামেন্ট কেটে দেওয়া হয় এবং শরীরের অন্য অংশ থেকে চর্বি নিয়ে লিঙ্গে দেওয়া হয়।

অস্ত্রোপচারের পর তিনি তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হন। শরীরে ব্যাপক কালশিটে দাগ পড়ে এবং প্রায় এক মাস ঠিকমতো হাঁটতে পারেননি।

পরে মোদগিলের কাছে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হন। অ্যালেক্সের মতে, আগে নিজের লিঙ্গকে তার কাছে ছোট মনে হয়নি। কিন্তু সমাজ ও পর্নোগ্রাফির প্রভাবে বড় লিঙ্গকে বেশি পুরুষালি ও আকর্ষণীয় মনে করার ধারণা তার মধ্যে তৈরি হয়েছিল।

চিকিৎসকদের আপত্তি কেন?

ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস সম্প্রতি লিঙ্গের আকার বাড়ানোর বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে সুপারিশ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি ৩ হাজার ৭৫০ জন পুরুষকে নিয়ে করা ৩৬টি গবেষণা পর্যালোচনা করেছে।

তাদের মতে, এসব প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রমাণ এখনো দুর্বল। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে ফিলার লিঙ্গে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

অধ্যাপক মোদগিল বলেন, বর্তমান প্রমাণের ভিত্তিতে তারা এ ধরনের প্রক্রিয়া সুপারিশ করতে পারছেন না। তবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়াও সম্ভবত অতিরিক্ত কঠোর হবে বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে, এ খাতের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এজন্য তিনি জাতীয় পর্যায়ে একটি নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন।

এতে ভবিষ্যতে পুরুষেরা লিঙ্গের আকার পরিবর্তনের এসব পদ্ধতির সম্ভাব্য উপকারিতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

এদিকে জেসন জানিয়েছেন, বর্তমানে নেওয়া ফিলারের প্রভাব শেষ হয়ে গেলে তিনি আবারও একই প্রক্রিয়া করানোর কথা বিবেচনা করবেন।

‘ইনসাইড হেলথ’ অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন জেরি হল্ট।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়