শিরোনাম
◈ শ্রম খাতে সংস্কার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-আইএলও ◈ এনজোর লাল কার্ডই কি আর্জেন্টিনার হা‌রের কারণ?  ◈ কও‌মি ধারার ক‌য়েক‌টি রাজ‌নৈ‌তিক দলের জামায়াত জোট থেকে বের হ‌য়ে হেফাজতে ইসলামে একজোট হওয়ার চেষ্টা ◈ তোমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই ক‌রে‌ছো, তোমা‌দের ধন‌্যবাদ, হারের পরও মেসিদের পাশে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ◈ কুমিল্লায় মহাসড়কে ৫ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ◈ সাঁড়াশি অভিযানেও অধরা ডেভিড ইমন, কোথায় আছেন তিনি? ◈ ভারত এবার ইংল্যান্ডের কা‌ছে ওয়ানডে সি‌রিজ হার‌লো  ◈ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে দুশ্চিন্তা বাড়‌লো বাংলা‌দেশ শি‌বি‌রে, লিটনের পর এখন অনিশ্চিত তারকা পেসার না‌হিদ ◈ মাত্র ১০ ডলারের চশমায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ◈ তীব্র তাপদাহে বাংলাদেশের মানুষের দ্বিমুখী সংকট: কমছে আয়, বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়

প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১০ রাত
আপডেট : ২০ জুলাই, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফসফরিক অ্যাসিডের সংকটে টানা ২০ দিন বন্ধ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ডিএপি সার কারখানা

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তীব্র ফসফরিক অ্যাসিড সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান 'ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড' (ডিএপিএফসিএল)। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই কারখানায় গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানা ও বিসিআইসি সূত্র জানায়, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ই-জিপির মাধ্যমে ২০ হাজার টন অ্যাসিড সরবরাহের দরপত্র আহ্বান করে। আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় কার্যাদেশ পায় দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ'।

চুক্তি অনুযায়ী, গত জুন মাসের মধ্যেই এই কাঁচামাল সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক শিপিং ও লজিস্টিকস খাত চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় জর্ডানসহ বিশ্বের প্রধান উৎসগুলো থেকে সময়মতো ফসফরিক অ্যাসিড আমদানি করা সম্ভব হয়নি। কারখানায় থাকা আপৎকালীন মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

সংকট কাটাতে বিসিআইসি গত ৮ ও ২৩ জুন নতুন করে আরও দুটি দরপত্র আহ্বান করলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে আবারও দুটি নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা যথাক্রমে আগামী ৮ আগস্ট এবং ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দৈনিক ৫০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন সক্ষমতার এই কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৬০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড এবং ২০০ টনের বেশি অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কারখানায় সর্বোচ্চ ২০ হাজার মেট্রিক টন অ্যাসিড মজুতের ধারণক্ষমতা রয়েছে।

ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, 'কাঁচামালের আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন ঘটায় নির্দিষ্ট মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানার প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে না পারলেও তাদের সঙ্গে চুক্তি এখনও বহাল রয়েছে। ফসফরিক অ্যাসিডের চালান পৌঁছানো মাত্রই দ্রুততম সময়ে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।'

দেশে সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬৯ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি ইউরিয়া এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএডিসি নন-ইউরিয়া (টিএসপি, এমওপি, ডিএপি) সার আমদানি করে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কারখানাগুলোতে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯১ টন সার উৎপাদিত হয়েছিল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়