শিরোনাম
◈ স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না: মির্জা ফখরুল ◈ পাঠ্যবইয়ে আসছে বড় পরিবর্তন, দুই শ্রেণিতে নতুন চার বই ◈ মিত্রদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: বাস্তবায়ন হবে ৩১ দফা ও জুলাই সনদ ◈ ইতালির স্বপ্ন ভেঙে লিবিয়ায় বন্দিদশা, মুক্তিপণে দেড় কোটি টাকা দাবি ◈ প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ মানদণ্ডে ব্যর্থ, বাজার থেকে ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের ◈ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ থমকে গেছে: বাজারে আসছে না নতুন ওষুধ, হুমকিতে বিপুল বিনিয়োগ ◈ নেপালকে হারিয়ে সিরিজে ২-১এ এগি‌য়ে গে‌লো বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল ◈ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ ◈ মিয়ানমার সীমান্তে ১০৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া, প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬, ০৯:২৪ সকাল
আপডেট : ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাত্র ১০ ডলারের চশমায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের কারখানায় সেলাই মেশিনের চাকা ঘোরে অবিরাম গতিতে। সুঁইয়ে সুতা গলানো, নিখুঁত হেম তৈরি কিংবা বোতাম লাগানোর মতো সূক্ষ্ম কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। আর এই তীব্র মনোযোগের কাজে সামান্য দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ফরচুন’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। মাত্র ১০ ডলারের (প্রায় ১,২০০ টাকা) একটি সাধারণ চশমা কীভাবে পোশাক শ্রমিকদের জীবন এবং দেশের অর্থনীতিতে কোটি কোটি ডলারের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে, তা-ই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার সুইং মেশিন অপারেটর রুমা আক্তার। প্রতিদিন হাজার হাজার পোশাক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা থাকে তার সামনে। চোখের সমস্যার কারণে আগে সুঁইয়ে সুতা পরাতে তার দীর্ঘ সময় লাগত, সাথে বোনাস হিসেবে থাকতো তীব্র মাথাব্যথা আর চোখের ক্লান্তি।

রুমা বলেন, "চশমাটি পাওয়ার পর এখন চোখের পলকেই আমি সুঁইয়ে সুতা পরাতে পারি। আগের চেয়ে ভুল অনেক কমে গেছে, আর মাথাব্যথা তো একদমই নেই।" রুমার মতো হাজারো শ্রমিকের কাজের গতি ও মান দুই-ই বদলে দিয়েছে এই সামান্য রিডিং গ্লাস।

চীন-এর পর বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ১১% এবং এখানে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক।

দরিদ্র দেশগুলোতে স্বল্পমূল্যে চোখের সেবা দেওয়া আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘ভিশনস্প্রিং’ এর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জনেরই চশমা প্রয়োজন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগেরই তা নেই।

কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভিশনস্প্রিং শ্রমিকদের জন্য ১০ ডলারের কম মূল্যে এই চশমা সরবরাহ করছে। ভিশনস্প্রিং-এর প্রধান নির্বাহী এলা গুডউইন জানান, চশমা ব্যবহারের ফলে শ্রমিকরা খুব সহজেই তাদের দৈনিক কোটা ও মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। এর ফলে সেলাই বাদ পড়া বা ভুল বোতাম লাগানোর মতো ত্রুটিগুলো অনেকাংশে কমে গেছে।

ব্রিটিশ জার্নাল অফ অফথালমোলজি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার পেছনে প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগ করলে মাত্র ১২ সপ্তাহে উৎপাদনশীলতা থেকে ৩ ডলার ৩৭ সেন্ট আয় সম্ভব।

এই গবেষণা অনুযায়ী, যদি বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার (২৭,০০০ কোটি মার্কিন ডলার) বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাংলাদেশের মাসকো গ্রুপের পরিচালক ফাহিমা আখতার জানান, প্রথমে তারা বুঝতেই পারেননি কত শ্রমিক চোখের সমস্যায় ভুগছেন, কারণ শ্রমিকরা সাধারণত সহজে অভিযোগ করেন না। মাসকো গ্রুপ তাদের ৫,০০০ শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করে প্রায় ৩০% শ্রমিককে বিনামূল্যে চশমা দিয়েছে। বাকি ২০,০০০ শ্রমিকের জন্যও এই কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ফাহিমা আখতার জোর দিয়ে বলেন, "শ্রমিকরা যদি পরিষ্কার দেখতে পান, তবে কারখানার উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি তাদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাও বাড়বে। পরিষ্কার দৃষ্টি এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের কারখানার অন্যতম প্রধান প্রয়োজনীয়তা।"

এক সময় শ্রমিকদের বয়স ৩০ বা ৪০-এর কোঠায় পৌঁছালে চোখের চালশে সমস্যার কারণে উৎপাদনশীলতা কমে যেত এবং অনেকে কাজ ছেড়ে দিতেন। কিন্তু কারখানার ভেতরেই এই বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যের চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা বিতরণ কর্মসূচির ফলে এখন সাশ্রয়ী উপায়ে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হচ্ছে। 

সূত্র: ইনকিলাব 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়