শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে টমেটো ও আলুর সংগ্রহ-পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট এক-তৃতীয়াংশ ধানে ১০.২৪% ◈ ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম‌্যাচ সন্ধ‌্যায়, মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ও জিম্বাবু‌য়ে ◈ মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত ◈ আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে ◈ উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, মাদক সিন্ডিকেট ও দখলদারি নিয়ন্ত্রণে ‘দে লাড়া’ গ্রুপ (পিচ্চি সানি) ◈ ইমরান খান, ক্যালিস, ও সোবার্সের তালিকায় সাকিব আল হাসান ◈ ভারত কোটি টাকা আয় করবে, আর বঞ্চিত হ‌বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ? ◈ হুতির হামলা আম‌লে নি‌চ্ছে না  সৌ‌দি আরব, যথাসময়ে এশিয়ান কাপ ফুটবল আয়োজনের ঘোষণা ◈ উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নিখুঁত হামলা, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপরিকল্পনা ◈ গণপিটুনিতে ৯ মাসে ১৭১ মৃত্যু, ‘মব’ কি সংঘবদ্ধ অপরাধের নতুন কৌশল?

প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬, ০৯:২৪ সকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাত্র ১০ ডলারের চশমায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের কারখানায় সেলাই মেশিনের চাকা ঘোরে অবিরাম গতিতে। সুঁইয়ে সুতা গলানো, নিখুঁত হেম তৈরি কিংবা বোতাম লাগানোর মতো সূক্ষ্ম কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। আর এই তীব্র মনোযোগের কাজে সামান্য দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ফরচুন’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। মাত্র ১০ ডলারের (প্রায় ১,২০০ টাকা) একটি সাধারণ চশমা কীভাবে পোশাক শ্রমিকদের জীবন এবং দেশের অর্থনীতিতে কোটি কোটি ডলারের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে, তা-ই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার সুইং মেশিন অপারেটর রুমা আক্তার। প্রতিদিন হাজার হাজার পোশাক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা থাকে তার সামনে। চোখের সমস্যার কারণে আগে সুঁইয়ে সুতা পরাতে তার দীর্ঘ সময় লাগত, সাথে বোনাস হিসেবে থাকতো তীব্র মাথাব্যথা আর চোখের ক্লান্তি।

রুমা বলেন, "চশমাটি পাওয়ার পর এখন চোখের পলকেই আমি সুঁইয়ে সুতা পরাতে পারি। আগের চেয়ে ভুল অনেক কমে গেছে, আর মাথাব্যথা তো একদমই নেই।" রুমার মতো হাজারো শ্রমিকের কাজের গতি ও মান দুই-ই বদলে দিয়েছে এই সামান্য রিডিং গ্লাস।

চীন-এর পর বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ১১% এবং এখানে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক।

Advertisement

দরিদ্র দেশগুলোতে স্বল্পমূল্যে চোখের সেবা দেওয়া আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘ভিশনস্প্রিং’ এর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জনেরই চশমা প্রয়োজন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগেরই তা নেই।

কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভিশনস্প্রিং শ্রমিকদের জন্য ১০ ডলারের কম মূল্যে এই চশমা সরবরাহ করছে। ভিশনস্প্রিং-এর প্রধান নির্বাহী এলা গুডউইন জানান, চশমা ব্যবহারের ফলে শ্রমিকরা খুব সহজেই তাদের দৈনিক কোটা ও মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। এর ফলে সেলাই বাদ পড়া বা ভুল বোতাম লাগানোর মতো ত্রুটিগুলো অনেকাংশে কমে গেছে।

ব্রিটিশ জার্নাল অফ অফথালমোলজি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার পেছনে প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগ করলে মাত্র ১২ সপ্তাহে উৎপাদনশীলতা থেকে ৩ ডলার ৩৭ সেন্ট আয় সম্ভব।

এই গবেষণা অনুযায়ী, যদি বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার (২৭,০০০ কোটি মার্কিন ডলার) বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাংলাদেশের মাসকো গ্রুপের পরিচালক ফাহিমা আখতার জানান, প্রথমে তারা বুঝতেই পারেননি কত শ্রমিক চোখের সমস্যায় ভুগছেন, কারণ শ্রমিকরা সাধারণত সহজে অভিযোগ করেন না। মাসকো গ্রুপ তাদের ৫,০০০ শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করে প্রায় ৩০% শ্রমিককে বিনামূল্যে চশমা দিয়েছে। বাকি ২০,০০০ শ্রমিকের জন্যও এই কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ফাহিমা আখতার জোর দিয়ে বলেন, "শ্রমিকরা যদি পরিষ্কার দেখতে পান, তবে কারখানার উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি তাদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাও বাড়বে। পরিষ্কার দৃষ্টি এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের কারখানার অন্যতম প্রধান প্রয়োজনীয়তা।"

এক সময় শ্রমিকদের বয়স ৩০ বা ৪০-এর কোঠায় পৌঁছালে চোখের চালশে সমস্যার কারণে উৎপাদনশীলতা কমে যেত এবং অনেকে কাজ ছেড়ে দিতেন। কিন্তু কারখানার ভেতরেই এই বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যের চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা বিতরণ কর্মসূচির ফলে এখন সাশ্রয়ী উপায়ে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হচ্ছে। 

সূত্র: ইনকিলাব 

  • সর্বশেষ