নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালী সদর উপজেলায় অটোরিকশার গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ৪৪ পিস ইয়াবা, একটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান ও এক রাউন্ড কার্তুজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), র্যাব ও পুলিশ। এ সময় তিনটি মোবাইল ফোন ও তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার এওয়াজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামের মামুন উর রশিদের অটোরিকশার গ্যারেজের ভিতরের বিশ্রাম কক্ষে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের মৃত ইউছুপ মিয়ার ছেলে ও গ্যারেজের মালিক মামুন উর রশিদ (৩৭), একই ইউনিয়নের চাড়ুবানু গ্রামের মো: আব্দুল হানিফের ছেলে আব্দুল মন্নান (২৭) ও দাদপুর ইউনিয়নের বারাহীপুর গ্রামের মাফিজুর রহমানের ছেলে মানজুর রহমান সাকিল (৩৮)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি নোয়াখালীর উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান, র্যাব-১১-এর সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন এবং সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন বণিকের নেতৃত্বে তিনটি দল যৌথ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে মামুন উর রশিদের অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতরে হার্ডবোর্ডের পার্টিশন দিয়ে তৈরি একটি বিশ্রামকক্ষের খাটের ওপর থেকে ৪৪ পিস ইয়াবা, একটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, একটি সীসার কার্তুজ, তিনটি মোবাইল ফোন ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই কক্ষ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্যারেজের ভেতরের বিশ্রামকক্ষটি ইয়াবা সেবনের জন্য ব্যবহার করা হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এ ছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র ও কার্তুজ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং অস্ত্র আইন, ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দুটি করেন।