কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুরে ফসলি জমি থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে লালমাই থানা পুলিশ। মরদেহের পাশ থেকে কুমিল্লা থ-১৩-০১১৪ নম্বরের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা ওষুধ কোম্পানি রেনাটা লিমিটেডের কুমিল্লা রিজিয়নাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। চাকরির সুবাদে পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ধানমন্ডি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকে।
স্থানীয় জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় গামছা পেচানো এবং মুখমণ্ডল মাটিতে চেপে রাখা ছিল।
নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর তার একমাত্র মেয়ে তাজমিন শহরের এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা রেসকোর্সের ধানমন্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। পরে সে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়।
বুধবার রাত ২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে এসে নামার পর মেয়ের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ করতে না পেরে সকালে মেয়ের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন তিনি। পরে জানতে পারেন, ফোনটির অবস্থান লালমাই থানা এলাকায়। সেই সূত্র ধরে খোঁজ করতে গিয়ে জগতপুর এলাকায় ফসলি জমি থেকে তার মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তার গলায় গামছা পেচানো ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কিশোরীর মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তিনি ওই স্থানে এসেছেন, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।