নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি পারিবারিক পুকুরে ‘জলপরী’ দেখা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এ গুজবকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিনই পুকুরপাড়ে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে নানা ভিডিও ও কল্পকাহিনি।
উপজেলার একদরিয়া ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামের পুকুরটিকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটেছে। পুকুরটির মালিক কবির আহমেদ ভূঁইয়া। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটিতে সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছে।
পুকুরের মালিক কবির আহমেদ বলেন, কয়েক দিন আগে পুকুরে একসঙ্গে অনেক সিলভার কার্প মাছ সাঁতার কাটার দৃশ্যকে কেউ কেউ ‘জলপরী’ বলে প্রচার শুরু করেন। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পুকুরটি দেখতে আসতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অনেকে নানা ধরনের কাল্পনিক গল্প ছড়াচ্ছেন। এতে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। মানুষের ভিড়ের কারণে পুকুরের মাছের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
এ ধরনের গুজব বন্ধে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন পুকুরের মালিক। একই সঙ্গে অযাচিতভাবে মানুষের জমায়েত বন্ধ করারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে গুজবের সত্যতা যাচাইয়ে মঙ্গলবার বিকেলে পুকুরটিতে তল্লাশি চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় জাল ফেলে পুকুরের বিভিন্ন অংশে খোঁজ করা হয়। তবে মাছ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী বা অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেখানে মাছ ছাড়া অন্য কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, কিছু ভুঁইফোড় মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরই জলপরী দেখার গুজব ছড়িয়েছে। অনেকে বিষয়টি যাচাই না করেই নানা ধরনের কথা প্রচার করছেন। এতে পুকুরটির সামনে মানুষের ভিড় তৈরি হচ্ছে।
ইউএনও বলেন, গুজবের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।