হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথায় এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সোনাপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
সংবাদ পেয়ে সালথা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সোনাপুর ও রাঙ্গারদিয়া গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। সোমবার বিকেলে সোনাপুর বাজারে জয়নাল প্রফেসরের সমর্থক এবং রাঙ্গারদিয়া গ্রামের টুকু মাতুব্বর ও ফুকরা গ্রামের ফজলু মাতুব্বরের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
এরই জের ধরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী চলে এই সংঘাত। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফুকরা গ্রামের ফজলু মাতুব্বর বলেন, "বিকেলে টুকু মাতুব্বর বাজারে চা খেতে এলে জয়নাল প্রফেসরের সমর্থকরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। আমি থামাতে গেলে আমার ওপরও তারা আক্রমণ করে। পরে সংঘর্ষে আমাদের ৮-১০ জন লোক আহত হয়েছে।"
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রফেসর জয়নাল মোল্যা জানান, "আমি ফরিদপুরে অবস্থান করছিলাম। শুনেছি আমার চাচাতো ভাই উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরিয়ান হাসান হৃদয় সোনাপুর বাজারে গেলে ফজলু ও টুকু মাতুব্বর তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাধা দিতে গেলে সংঘাতের সৃষ্টি হয় এবং আমাদের ৯-১০ জন লোক আহত হয়।"
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।