শিরোনাম
◈ তাঁবু রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ, আয় ২৩ কোটি ডলারের বেশি ◈ জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর ক্রিকেটার‌দের তা‌মিম বল‌লেন, ক‌ঠোর প‌রিশ্রম চা‌লি‌য়ে যাও রেজাল্ট পা‌বে ◈ টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী ◈ বৈধ অস্ত্র দিয়ে ভয়-ভীতি দেখালে কী শাস্তি, লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা লাগে জানুন নিয়ম ◈ ছবি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠছে না, চিরতরে বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের ‘উল্কা’ সিনেমা হল ◈ কক্সবাজারের পাহাড়ি সড়কে দুই দফায় ডাকাতি, ১৫-১৬টি যানবাহনের যাত্রীদের মালামাল লুট ◈ ঢাকা-২৩ আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন পেতে ৬৯ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলেন তারেক রহমান ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন-ভাতা নিয়ে যা জানাল অর্থ মন্ত্রণালয় ◈ পরমাণু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে চাপ নিতে প্রস্তুত কি দেশের গ্রিড? বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ ◈ ওমা‌নের মা‌ঠে সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০৪ দুপুর
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে

সাইফুল ইসলাম মিঠু, চুয়াডাঙ্গা:  এ বছর ২০২৫ শীতের পূর্ব সময়ে ইতোমধ্যেই চুয়াডাঙ্গার জিবননগর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার গ্রামে গ্রামে শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা এখন খেজুর গাছ ছাঁটাই ও চাচ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের সবচেয়ে বড় খেজুর গুড়ের বাজার বসে এ জেলায়। স্থানীয় মানুষ বছরের এই সময়টির অপেক্ষায় থাকে সারাবছর। কারণ শীত মানেই মিষ্টি খেজুরের রস, গুড়-পাটালি আর পিঠা-পায়েসের উৎসব। স্থানীয় গাছিরা প্রথমে ধারালো দা দিয়ে গাছের মাথা ছাঁটাই করে, যাকে তারা ‘ডেগো ছাটাই’ বলে। এক সপ্তাহ পর গাছের সোনালি অংশ বের করে দেওয়া হয়, যেটিকে ‘চাচ দেওয়া’ বলা হয়। এরপর বাঁশের তৈরি নলি বসিয়ে মাটির ভাড় (কলস) ঝুলিয়ে দেওয়া হয় রস সংগ্রহের জন্য। শীতে ভোরের কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাস জানিয়ে দেয় রসের সময় এসে গেছে। এখন প্রতিদিন সকালেই গ্রামে গ্রামে গাছের নিচে ভাড় নামাতে যাই গাছিরা, রসের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। রস সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নতুন ধানের চাউল দিয়ে গুড়া তৈরি ও রসের পিঠা বানানোর আয়োজন। খেজুরের রস থেকে তৈরি হয় দানা গুড়, পাটালি গুড় ও তরল গুড়- যার সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর শীতের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ বাজারের গুড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। বছরে শত কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এখন অনেকে অনলাইনে অর্ডার দিচ্ছেন বিদেশেও পাঠানোর কথা বলে।

খেজুর গাছ অন্যান্য গাছের মতো সার বা কীটনাশক ছাড়াই বড় হয়। এটি কৃষকদের অতিরিক্ত আয় দেয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে স্থানীয়রা জানান, ইটভাটায় খেজুর গাছ পোড়ানো এবং অপরিকল্পিত গাছ কাটা বন্ধ না করলে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

চুয়াডাঙ্গার খেজুর রস শুধু মিষ্টি খাদ্য নয়, এটি একটি ঐতিহ্য, যা এই অঞ্চলের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি শীত তথা শৈতপ্রবাহ আসে এই জেলায়। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম বাংলার প্রতিটি ভোরে যখন ভাড় থেকে রস ঝরবে, তখন আবারও জীবন্ত হয়ে উঠবে সেই পুরনো চিত্র খেজুর গাছের নিচে রস বিক্রির ভিড়, আনন্দে গুড়ের গন্ধে ভরে থাকে চুয়াডাঙ্গার গ্রামগুলো।

  • সর্বশেষ