শিরোনাম
◈ রংপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ তাঁবু রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ, আয় ২৩ কোটি ডলারের বেশি ◈ জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর ক্রিকেটার‌দের তা‌মিম বল‌লেন, ক‌ঠোর প‌রিশ্রম চা‌লি‌য়ে যাও রেজাল্ট পা‌বে ◈ টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী ◈ বৈধ অস্ত্র দিয়ে ভয়-ভীতি দেখালে কী শাস্তি, লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা লাগে জানুন নিয়ম ◈ ছবি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠছে না, চিরতরে বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের ‘উল্কা’ সিনেমা হল ◈ কক্সবাজারের পাহাড়ি সড়কে দুই দফায় ডাকাতি, ১৫-১৬টি যানবাহনের যাত্রীদের মালামাল লুট ◈ ঢাকা-২৩ আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন পেতে ৬৯ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলেন তারেক রহমান ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন-ভাতা নিয়ে যা জানাল অর্থ মন্ত্রণালয় ◈ পরমাণু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে চাপ নিতে প্রস্তুত কি দেশের গ্রিড? বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ

প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ দুপুর
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তাঁবু রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ, আয় ২৩ কোটি ডলারের বেশি

প্রচলিত তৈরি পোশাকের বাইরে দেশের রপ্তানি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশে এ খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশকে এসব পণ্যের অন্যতম উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছেন।

বিশ্ববাজারে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম রপ্তানিতে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। পোশাক খাতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামও এ পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে উঠে আসছে।

বিশ্বজুড়ে ক্যাম্পিং, অ্যাডভেঞ্চার ও আউটডোর বিনোদনের বাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় তাঁবু ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের চাহিদাও বাড়ছে। এই পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন নতুন পণ্য রপ্তানিতে দেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরো শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন উৎপাদন ইউনিট স্থাপন এবং বিদ্যমান কারখানাগুলোর সক্ষমতা সম্প্রসারণ হলে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

Advertisement

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি এ শিল্পের টেকসই বিকাশে বড় বাধা হয়ে আছে কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা। তাঁবু তৈরিতে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষায়িত ফেব্রিক, কাঠামোগত পোল, জিপার, ফিটিংসসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক উপকরণের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাঁচামালের স্থানীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

জাতিসংঘের বাণিজ্য পরিসংখ্যান কমট্রেডের ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী তাঁবু রপ্তানিতে চীনের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আউটডোর বিনোদন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তায় তাঁবুর ব্যবহার বাড়ায় এ পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও বড় হচ্ছে।

২০২৫ সালে বিশ্বে ক্যাম্পিং তাঁবুর বাজারের আকার প্রায় ৬.১৮ বিলিয়ন ডলার। এই বড় বাজারে চীনের পাশাপাশি বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান তৈরি করছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী রপ্তানি করে প্রায় ২৩৭.৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে এসব পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২০.৮৩ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ যে তাঁবু রপ্তানি করে তার প্রায় ৯৩ শতাংশই এসেছে সিনথেটিক ফাইবারের তাঁবু থেকে, যার রপ্তানি মূল্য ২২ কোটি ৭ লাখ ডলার। বাকি অংশ ক্যাম্পিং সরঞ্জাম ও তারপলিন জাতীয় পণ্য, তারপলিন ও ছাউনি, টেক্সটাইলের তাঁবু ও তাঁবু-সেইল জাতীয় পণ্য।

এর আগে এ খাতে রপ্তানি আয় ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪২১ মিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২২২ মিলিয়ন ডলার।

করোনা মহামারির সময় বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাতটি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪৯টি দেশে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম রপ্তানি করেছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে গত অর্থবছরে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম রপ্তানি হয়েছে ৮৭.৫২ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৩৬.৯ শতাংশ। এরপর ফ্রান্সে ২৮.৭৩ মিলিয়ন, কানাডায় ১৯.৯৯ মিলিয়ন, স্পেনে ১৯.১৭ মিলিয়ন এবং যুক্তরাজ্যে ১৮.৪৪ মিলিয়ন ডলারের তাঁবু রপ্তানি হয়েছে।

আকর্ষণীয় উৎপাদন কেন্দ্র

ইপিবির তথ্যানুযায়ী এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাতটিতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) কেন্দ্রীভূত এই শিল্পে বর্তমানে ১৪টি কারখানা সক্রিয়ভাবে উৎপাদন চালাচ্ছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে। গত দুই বছরে এ খাতে প্রায় আটটি নতুন বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে।

গত ২০ মে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও হংকংভিত্তিক সানশাইন আউটডোর বিডি কোং লিমিটেড তাঁবু ও ক্যাম্পিং পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগের জন্য জমি ইজারা চুক্তি করেছে।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার পিএইচ ক্রিয়েটিভ বিডি লিমিটেড একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাঁবুর ফ্রেম, ফাইবারগ্লাস পোল, স্লিপিং ব্যাগ, ক্যাম্পিং চেয়ার ও আনুষঙ্গিক পণ্য উৎপাদনে ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগের চুক্তি করে। হংকং-চীনভিত্তিক গ্রিন পিউর হাউসওয়্যার কোম্পানি লিমিটেড গ্রিনহাউস ও হাইড্রোপনিকস টেন্ট উৎপাদনে প্রায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এছাড়া তাঁবু ও আউটডোর পণ্য উৎপাদনে ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেড প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তাইওয়ান সমর্থিত ন্যাটওয়ে আউটডোর প্রায় ৩ কোটি ৩ লাখ ডলার এবং কুইন্ডা আউটডোর ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগে কারখানা স্থাপন করেছে, যেখানে তাঁবুর পাশাপাশি স্লিপিং ব্যাগও তৈরি হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল এই খাতের অন্যতম বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ১১টি উৎপাদন লাইন রয়েছে। মাসে প্রায় ৩ লাখ তাঁবু তৈরির সক্ষমতা নিয়ে তারা বিশ্বের ৩৩টি দেশে পণ্য রপ্তানি করে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি আরো সাড়ে ৩ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ইপিজেডে তিনটি কারখানার মাধ্যমে তাঁবু, ক্যাম্প ফার্নিচার ও ক্যানোপি তৈরি করে ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেড। যার বছরে পণ্য রপ্তানি প্রায় ১২ কোটি ডলার। চাহিদা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগে আরেকটি কারখানা স্থাপন করছে। যেখানে বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ পিস তাঁবু, ব্যাগ-ব্যাকপ্যাক, ক্যাম্পিং চেয়ার-ফার্নিচার, লাগেজ, স্লিপিং ব্যাগ ও গেজেবো উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম ইপিজেডভিত্তিক এইচকেডি ইউনি-টেক লিমিটেড আউটডোর চেয়ার, কট ও অন্যান্য ক্যাম্পিং সরঞ্জামের পাশাপাশি এসব পণ্যে ব্যবহৃত স্টিলের পোল-পাইপ উৎপাদনেও বিনিয়োগ করছে।

ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) হং উ লি জানান, বাংলাদেশ তাদের কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের শুরু থেকেই তারা উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েছেন এবং তা তাদের বৈশ্বিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বেপজার সহযোগিতা তারা এখনো পাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে চান তারা।

তিনি জানান, ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল ইনস্ট্যান্ট তাঁবু ও প্লাস্টিকের মোল্ড তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে। বড় বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো এখন বাংলাদেশে উৎপাদন কারখানা পরিচালনা করায় তাঁবু প্রস্তুতকারকদের জন্য বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রামে বড় উৎপাদন ঘাঁটি

চট্টগ্রামের ইপিজেডগুলোতে ক্যাম্পভ্যালি, অফমা ক্যাম্প ও এইচকেডি, পার্ক বাংলাদেশসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম তৈরি করে। এর মধ্যে ক্যাম্পভ্যালির তিনটি উৎপাদন কারখানা রয়েছে। এছাড়া মিরসরাইয়ে তাদের নতুন কারখানা স্থাপনের কাজ চলমান ।

তাঁবু, ক্যাম্পিং ফার্নিচার, ক্যানোপিসহ বিভিন্ন ক্যাম্পিং ও ট্রাভেল অ্যাকসেসরিজ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। ক্যাম্পভ্যালির প্রতি বছরে রপ্তানি আয় ১২ কোটি ডলারের বেশি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভ্রমণপ্রিয় মানুষের জন্য তাঁবু যাচ্ছে এই ইপিজেড থেকে। গত অর্থবছরে ৩ কোটি ৭২ লাখ ডলারের তাঁবু রপ্তানি করেছে এইচকেডি আউটডোর ইনোভেশনস লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ইপিজেডে অফমা ক্যাম্প লিমিটেড ক্যাম্পিংয়ে ব্যবহৃত হ্যামক বা ঝুলন্ত বিছানা, স্লিপিং ব্যাগ, বালিশ, ঘোড়ার স্যাডল প্যাডসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে। বিশ্বের ২১টি দেশে তাদের পণ্য রপ্তানি হয়।

গত অর্থবছর প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানি করেছে ৪ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য। অফমা ক্যাম্প লিমিটেডের বড় ক্রেতা ফরাসি ক্রীড়া ও আউটডোর পণ্যের খুচরা বিক্রেতা ডিক্যাথেলন। ট্রাভেল ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, লেডিস ব্যাগ ও সার্ফিং ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করে শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান পার্ক বাংলাদেশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৬ লাখ বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ উৎপাদন করছে। সর্বশেষ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ২০১০ সালে কর্ণফুলী ইপিজেডে যাত্রা শুরু করা ‘এ-টাইপ’ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন।

পার্ক বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, কারখানায় উৎপাদিত ব্যাগের প্রায় ৮০ শতাংশই নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি করা হয়। সেখান থেকে এসব পণ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিতরণ করা হয়। ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য বাজারেও প্রতিষ্ঠানটির পণ্য যাচ্ছে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, দেশের ইপিজেডগুলো শুধু গার্মেন্টেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৈচিত্র্যময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে, যা দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গার্মেন্ট ছাড়াও ইপিজেডগুলোতে সাইকেল, ব্যাগ, ফার্নিচার ও তাঁবু উৎপাদন হয়। তাঁবুর অ্যাকসেসরিজ, সেফটি শু ও ফ্যাশন শু উৎপাদন করে বাংলাদেশের শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা বড় চ্যালেঞ্জ

এই শিল্পের পোল, ফ্রেম, ফার্নিচার, ব্যাগ, স্লিপিং পণ্য ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক উপকরণ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা গেলে দেশীয় মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা। কিছু কারখানা ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু করেছে, তবে এখনো ফেব্রিক আমদানি করতে হয়। আরো উন্নত পণ্য, টেকসই উপকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাম্পিং সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা গেলে স্থানীয় উৎপাদকরা উচ্চমূল্যের অর্ডার পাওয়ার প্রতিযোগিতায় আরো ভালো অবস্থানে যেতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা যখন আরো কঠিন হয়ে উঠবে, তখন প্রচলিত পোশাকের বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল পণ্যের এই ধরনের বহুমুখীকরণ বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে ক্যাম্পভ্যালির বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক কামার উল হক জানান, উৎপাদনের যে কাঁচামাল আমরা ব্যবহার করি তার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দেশে উৎপাদন হয়। বাকি ৮০ থেকে ৭০ শতাংশ আমদানি করতে হয় চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে—তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম তৈরির প্রধান কাঁচামাল পলিয়েস্টার ও নাইলন ফেব্রিক, পিইউ ও সিলিকন কোটিং, পলিয়েস্টার মেশ, নাইলন-পলিয়েস্টার দড়ি, ফ্রেম, খুঁটি ইত্যাদি। এসব পণ্যের জন্য আমাদের বিভিন্ন দেশে যেতে হয়।

তিনি বলেন, বাকি কাঁচামালগুলোও যদি উৎপাদন হয় বাকি তাহলে আমাদের উৎপাদনের খরচ কমত আমরা আরো বেশি দ্রুত সময়ে বেশি পরিমাণ পণ্যে রপ্তানি করতে পারতাম। তিনি আরো জানান, সাম্প্রতিক কাঁচামাল তৈরির কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। কুমিল্লাতে এ ধরনের একটি কারখানা তৈরির কাজ চলমান।

সূত্র: আমার দেশ 

  • সর্বশেষ