শিরোনাম
◈ বৈধ অস্ত্রের ভয়-ভীতি দেখালে কী শাস্তি, লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা লাগে জানুন নিয়ম ◈ ছবি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠছে না, চিরতরে বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের ‘উল্কা’ সিনেমা হল ◈ কক্সবাজারের পাহাড়ি সড়কে দুই দফায় ডাকাতি, ১৫-১৬টি যানবাহনের যাত্রীদের মালামাল লুট ◈ ঢাকা-২৩ আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন পেতে ৬৯ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলেন তারেক রহমান ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন-ভাতা নিয়ে যা জানাল অর্থ মন্ত্রণালয় ◈ পরমাণু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে চাপ নিতে প্রস্তুত কি দেশের গ্রিড? বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ ◈ ওমা‌নের মা‌ঠে সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে সময় লাগছে মাত্র ১৫-২০ মিনিট, জানালেন বিমানমন্ত্রী ◈ হা‌রের ক্ষত না শুকা‌তেই আইসিসির শাস্তি পেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ◈ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির মামলায় ৯৯ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৫৩ রাত
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বৈধ অস্ত্রের ভয়-ভীতি দেখালে কী শাস্তি, লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা লাগে জানুন নিয়ম

বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই ইচ্ছামতো অস্ত্র বহন বা ব্যবহার করার সুযোগ নেই। আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া অস্ত্রের প্রদর্শন, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একইভাবে অবৈধ অস্ত্র রাখা বা অপরাধের উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করলেও রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান।

বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া, নবায়ন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে নির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন এবং ২০১৬ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার আলোকে লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র ব্যবহারে নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হয়।

অস্ত্রের অপব্যবহারে কী শাস্তি?

কেউ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে বা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করলে অস্ত্র আইন, ১৮৭৮-এর ধারা ১৯, ১৯-২৪-এ বিভিন্ন প্রকারের শাস্তির বিধান রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে পিস্তল, রিভলবার, রাইফেল, শটগান বা অন্য কোনো আগ্নেয়াস্ত্র দখলে রাখেন, তবে তিনি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্য যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন; যার মেয়াদ ১৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

Advertisement

আবার কেউ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডিত বা ৫০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। 

লাইসেন্সধারীরা যেসব নিয়ম মানবেন

লাইসেন্সধারী ব্যক্তিকে অস্ত্র বহন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমোদিত শর্ত মেনে চলতে হবে। আত্মরক্ষার প্রয়োজনের বাইরে অস্ত্র প্রদর্শন করে কাউকে ভয় দেখানো বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি কিংবা আইন অনুযায়ী অন্য কোনো কারণ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারে। অস্ত্র আইনের ১৮ ধারায় লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের বিধান রয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানের নামে লাইসেন্স করা অস্ত্রের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে বা অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা শেষ হলে কীভাবে অস্ত্র জমা দিতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের শর্ত ও প্রযোজ্য নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা লাগে?

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন, নবায়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কর-সংক্রান্ত শর্ত ও আবেদনপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সর্বশেষ নীতিমালাই অনুসরণ করা জরুরি। 

আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নীতিমালা থেকে শর্তগুলো যাচাই করা উচিত। পুরোনো নীতিমালার তথ্যের সঙ্গে বর্তমান বিধানের পার্থক্য থাকতে পারে।

সংবিধানে যা আছে

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ। তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা সংবিধান, সরকারের কার্যবিধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান দিয়ে নির্ধারিত হয়। সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ ও সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। সরকারের কার্যবিধিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। তবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশের মতো তল্লাশি, আটক কিংবা গ্রেফতার করার ক্ষমতা পান না। এ ধরনের ক্ষমতার জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি প্রয়োজন।

বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কথা উল্লেখ রয়েছে।

আইনটির ২১ ধারায় প্রকাশ্য স্থান বা চলাচলকারী যানবাহনে মাদকদ্রব্য জব্দ এবং নির্দিষ্ট শর্তে কাউকে আটক ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ২৩ ধারায় নির্দিষ্ট শর্তে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশের উপপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা এবং নির্দিষ্ট বাহিনীর অন্য কর্মকর্তাদের। এই বিধানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে আলাদা কোনো অভিযান পরিচালনার ক্ষমতার উল্লেখ নেই। ফলে তাদের পদমর্যাদা নিজে থেকে মাদকবিরোধী অভিযানের আইনগত এখতিয়ার তৈরি করে না।

লাইসেন্স বাতিল হলে আগ্নেয়াস্ত্র বিষয়ে কার্যক্রম

লাইসেন্স বাতিল করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাতিল করা লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট অস্ত্র তিনদিনের মধ্যে নিকটস্থ থানায় জমা দিতে হবে। থানার ওসি এ বিষয়টি অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন এবং অস্ত্র থানায় সংরক্ষণ করবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কিত পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।

যে কোনো সময় বাতিলের ক্ষমতা

নীতিমালা অনুযায়ী, অস্ত্র ব্যবহারের নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন না করলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে কোনো সময় লাইসেন্স বাতিল করতে পারেন। এ ছাড়া সরকার প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল এবং অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট নীতিমালার এসব বিধানের মাধ্যমে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, অপব্যবহার প্রতিরোধ ও লাইসেন্সের শর্ত প্রতিপালন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইশরাকের অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট এলাকার উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবেন। সেখানে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘লাইসেন্স করা অস্ত্র যত্রতত্র ব্যবহার ও জনমনে ভয় দেখালে তা বাতিল হতে পারে।’

  • সর্বশেষ