পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী রাসেল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমি আক্তার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের কাজলাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাসেল হাওলাদারের স্ত্রী।
নিহতের ভাই মেহেদী হাসান জানান, চাকরির কারণে সুমি ও রাসেল ঢাকায় বসবাস করতেন। শুক্রবার পরকীয়ার সন্দেহে দিনভর সুমিকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সন্ধ্যায় সুমির মৃত্যু হয়।
মেহেদী হাসানের অভিযোগ, ঘটনার পর ওই বাসার লোকজন খিলগাঁও থানায় সুমি আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় রাসেল সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে সুমিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর অভিযান চালিয়ে রাসেল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে সুমির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠি গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। শনিবার সকালে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে নির্যাতনের সময় ধারণ করা ভিডিওটি কে বা কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্যাতনের সময় ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা কেন সুমিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত রাসেল হাওলাদারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।