শিরোনাম
◈ ফুলহ‌্যা‌মের বিরু‌দ্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাটকীয় জয় ◈ রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে রিয়াল মা‌দ্রিদের কষ্টের জয় ◈ অবশেষে শৃঙ্খলায় ফিরছে ১০২২ লাইটার জাহাজ, বিডব্লিউটিসিসির বিশেষ সফটওয়্যার চালু ◈ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চালু হচ্ছে না থার্ড টার্মিনাল, সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার ◈ ইউরোপে কে আসবে সিদ্ধান্ত নেবে ইউরোপই: অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর ইইউ ◈ নারী প্রশ্ন, ভোটার মাইগ্রেশন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নির্বাচনি রাজনীতিতে উত্তাপ ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক কর্মবিরতির পর কড়া ব্যবস্থা, সরাসরি বুকিং ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, বিএনপিপন্থী চার নেতা বদলি ◈ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উপমার লাশ, হিসাব মিলছে না কারও ◈ অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করলো পাকিস্তান ◈ তুরস্ক ভিসা এখন ঢাকায়: কোথায়, কখন, কত ফি—সব তথ্য এক নজরে

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০১৯, ০৩:১০ রাত
আপডেট : ২৭ জুন, ২০১৯, ০৩:১০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আমি জানি না, হিন্দুত্ববাদে ঠিক কোথায় লেখা আছে বিধর্মীদের জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ বলালে পুণ্য হয়?

অমিত দিত্তু : বছর পঁচিশের সদ্য বিবাহিত তবরেজ আনসারী পুণেতে কাজ করতো। ঈদের ছুটিতে জামশেদপুরে নিজের বাড়িতে এসেছিলো বউ এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করে কিছুটা সময় কাটাতে। ২৪ জুন তাকে এবং তার আরো দুই বন্ধুকে বাইক চোর সন্দেহ করে ঘিরে ফেলে তার বাড়ি থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে, একটি অন্য গ্রামের মানুষরা। বাকি দুজন পালিয়ে গেলেও তবরেজকে ধরে ফেলে তারা। একটা সিমেন্টের পোলের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয় তাকে। তারপর শুরু হয় প্রশ্ন করা... নাম কি? সোনু, ভালো নাম কি? তবরেজ আনসারী... ব্যাস শুরু হয়ে যায় কাঠের ডা-া দিয়ে বেধড়ক মারধর। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে প্রাণ ভিক্ষা চাইতে শুরু করেন তবরেজ। কিন্তু না। কোনো রেহাই তাকে দেয়া হয়নি। সারাদিন, সারারাত তাকে পিটিয়ে গেছে গ্রামের লোক। ‘জয় শ্রী রাম’ ‘জয় হনুমান’ বলতে বলা হয়েছে। সে বলেছে।

তার পিঠে কাঠের লাঠি ভাঙতে ভাঙতে বলা হয়েছে, ‘আরো জোরে বল’। সে যন্ত্রণায় ভেঙে পড়তে পড়তে আরো জোরে তারস্বরে বলেছে ‘জয় শ্রী রাম...’ ভোরের দিকে লুটিয়ে পড়ে তবরেজ। গ্রামের লোকেরা বিপদ বুঝে তাকে পুলিশ স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে জানায়, বাইক থেকে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছে সে। পুলিশ কাস্টিডিতে শরীরের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায় তার। ...হাসপাতালে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আমি জানি না শ্রী রামের কাছে তার গলার আওয়াজ পৌঁছেছিলো কিনা! আমি জানি না শ্রী রাম ঠিক কতোটা মুগ্ধ হন যখন একটা মুসলিম গলায় তার নাম ভেসে যায় বাতাসে! আমি জানি না হিন্দুত্ববাদে ঠিক কোথায় লেখা আছে বিধর্মীদের জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ বলালে পুণ্য হয়! আমি শুধু জানি এই হিংসা দেশ ছাড়াবে। আজ আমাদের দেশে মুসলিম সংখ্যালঘু, তাই এই অত্যাচার।

কাল অন্য যেসব মুসলিম দেশে হিন্দুরা সংখ্যালঘু, সেখানে কিছু হিন্দুকে ঠিক একইভাবে মেরে ফেলা হবে। আবার কোনো মুসলিম জঙ্গি সংগঠন তাদের ‘কওম’কে ‘আওয়াম’কে রক্ষা করতে হামলা করবে আপনার আমার বাড়িতে। আমি মরবো, মরবে তবরেজ আনসারী। আমার দেহ নিয়ে দৌড়াবে একটা লাশগাড়ি নিমতলার দিকে। ধূপের গন্ধ, রাস্তাজুড়ে খই আর হরির নাম ছড়িয়ে দেবে আমার হিন্দু আত্মীয়রা। রাস্তায় মুসলমান তবরেজ ভাইয়ের জানাজার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে আমার লাশগাড়ির। তখন একে অপরের দিকে তাকিয়ে আমার আর তবরেজ ভাইয়ের আত্মীয়রা বুঝবে, চোখের জলের শালা কোনো ধর্ম হয় না... ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়