দীর্ঘ ১৯ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর পাকিস্তানের লাহোরে আবার ফিরেছে ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’। এতদিন নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে ঘুড়ি উৎসব নিষিদ্ধ ছিল। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাহোরে আকাশজুড়ে এখন রঙিন ঘুড়ি উড়ছে। সেইসঙ্গে প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে ছাদে মানুষের হাসি, চিৎকার আর ঢোলের শব্দ বসন্তের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।
পুরো শহর হারানো এক সাংস্কৃতিক উৎসব ফের ফিরে পাওয়ার আনন্দে গদগদ করছে। শহরের সরু গলিতে হোটলেই চোখে পড়েছে বৈদ্যুতিক তারে আটকে থাকা ঘুড়ি নামানোর চেষ্টা করছে যুবক ও কিশোরেরা।
শহরটির আকাশে অসংখ্য ঘুড়ি কখনো জিগজ্যাগ, আবার কখনো গোল পাকিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। ২৫ বছর বয়সী লাহোরের বাসিন্দা টেক ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর আহমেদ বলেন, ঘুড়ি ওড়ানো মোটেও সহজ নয়।
তার চাচাতো ভাই তাকে ঘুড়ির সুতা টানার কৌশল শেখাচ্ছিলেন। আবু বকর বলেন, আমাদের পুরো প্রজন্মই ভীষণ উত্তেজিত। আমাদের আগের প্রজন্ম জানে, কিন্তু আমরা জেন-জি আমরা তো প্রায় কিছুই জানি না।
পাকিস্তানে ঘুড়ি উড়ানোর এই ‘বসন্ত’ উৎসব মূলত বসন্ত মৌসুমের সূচনা উপলক্ষে শত শত বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। তবে এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের প্রাণহানির তিক্ত স্মৃতি। আর সেই কারণেই ২০০৭ সালে এই উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
তবে এবার অতীতের বিষয় মাথায় রেখে কড়া নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে শহরজুড়ে। কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারের ‘বসন্ত’ উৎসব সীমিত করা হয়েছে মাত্র তিনদিনে। বড় আকারের ঘুড়ি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ সেগুলোর জন্য শক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ সুতা প্রয়োজন হয়।
নাবালকদের ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাবধানতা হিসেবে মোটরসাইকেল আরোহীদের হ্যান্ডেলের মাঝে ধাতব দণ্ড লাগানো হয়েছে, যাতে সুতা তাদের গলায় না পেঁচায়।
লাহোর পুলিশের উপ ইন্সপেক্টর জেনারেল বলেছেন, তারা এক লাখের বেশি ঘুড়ি ও দুই হাজারের বেশি সুতার রিল জব্দ করেছেন।