স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বকাপের মালিকানা বেসরকারি সংস্থার হাতে বিক্রি করতে চেয়েছিল ফিফা। কিন্তু প্রবল বিরোধিতায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়েছে। সেই যুদ্ধে হারের পর এ বার নতুন আর এক যুদ্ধ জেতার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ফিফা। তাতে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোরা।
এখনও এক মাসও হয়নি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। তার মধ্যেই চার বছর পরের বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করে ফেলেছে ফিফা। ২০৩০ সালেই কি ৬৪ দেশের ফুটবল বিশ্বকাপ দেখা যাবে? আপাতত ফিফা যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে সেটাই বাস্তব হতে পারে। --- আনন্দবাজার
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই দরপত্র খুলেছে ফিফা। ৬৪ দেশের বিশ্বকাপ হলে তাতে আর্থিক দিক থেকে কী লাভ হবে, কোনও সমস্যা হতে পারে কি না, সে বিষয় বিশ্লেষণ করে ফিফার কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তার বরাত পাওয়ার জন্যই এই দরপত্র খোলা হয়েছে।
ফিফা জানিয়েছে, যে সব সংস্থা এই কাজে উৎসাহী, তারা ৭ অগস্টের মধ্যে দরপত্র জমা দেবে। ১৪ অগস্ট তা খতিয়ে দেখে ফিফা জানাবে, কোন সংস্থা বরাত পেল। তারা সব কিছু বিশ্লেষণ করে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর়্ট জমা দেবে। তার পর ফিফা তা খতিয়ে দেখবে। জানা গিয়েছে, ৬৪ দেশের বিশ্বকাপ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত চলতি বছরই জানিয়ে দেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।
১২ জুলাই ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, আগামী বার থেকে ৬৪ দেশের বিশ্বকাপ করা যায় কি না, সেই পরিকল্পনা চলছে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থাও ফিফার এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে। তার পরেই জোরকদমে কাজ শুরু করেছে ফিফা।
তবে তাতেও বিতর্ক হয়েছে। জানা গিয়েছে, দরপত্র খোলার আগে ফিফার অধীনস্থ ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে কিছু জানাননি ইনফান্তিনো। তাদের সঙ্গে আলোচনাও হয়নি। সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপের মালিকানা বেসরকারি সংস্থার হাতে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েও পিছু হটতে হয়েছে ফিফাকে। তাতে মুখ পুড়েছে ইনফান্তিনোর। এ বার না এই বিষয়েও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে হবে বিশ্বকাপ। পাশাপাশি বিশ্বকাপের ১০০ বছর হওয়ায় আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও কয়েকটি ম্যাচ হওয়ার কথা। কিন্তু যদি ৪৮ দলের বদলে ৬৪ দেশের বিশ্বকাপ হয়, তা হলে সেই তিন দেশে ম্যাচের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাতে আয়োজনে আরও জটিলতা আসতে পারে। এখন দেখার, এই পরিকল্পনা কোন দিকে এগোয়।