শিরোনাম
◈ জামায়াতের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান বিএনপির ◈ ১২ তারিখেই নির্বাচন হবে, হতেই হবে: ইনকিলাব মঞ্চ ◈ বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার: নতুনত্ব কি আছে? ◈ নতুন কর্মসূচির ঘোষণার কথা জানিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবির আন্দোলনকারীরা ◈ তারেক রহমানকে নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের ◈ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান, দেশের বাজারেও উচ্চমূল্য অব্যাহত ◈ সোহান ঝ‌ড়ে ধুম‌কেতুর বিরু‌দ্ধে দুর্বার একাদ‌শের জয় ◈ ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি ভোটাররা কি দেশের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারেন? ◈ নীরবে মদ বিক্রি শুরু করেছে সৌদি আরব, কিনতে পারছেন যারা ◈ যমুনার সামনে বিক্ষোভে অধিকাংশই লাঠির আঘাতে আহত: ঢামেক পরিচালক (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৫ রাত
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৪৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মন্তব্য প্রতিবেদন

নির্বাচনের অন্তিম সময়ে হঠাৎ উত্তাল রাজপথ রক্তে রঞ্জিত : দাবি ন্যায্য কিন্তু সময় কি সঠিক?

শাহাজাদা এমরান: নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকারও ক্ষমতায় থাকবে বড়জোর আরও দশ দিন। ঠিক এই সংবেদনশীল সময়ে বৃহস্পতিবার(৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দুটি আন্দোলন দেশকে উত্তাল করে তুলেছে। একটি সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন, অপরটি বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকার উত্তাল রাজপথ হয়েছে রঞ্জিত।

এই দুটি আন্দোলনের প্রতি শুধু আমার নয় গোটা বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষেরই নৈতিক সমর্থন রয়েছে। দাবি দুটি যৌক্তিক, আবেগতাড়িত এবং ন্যায়সংগত। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্বাচনী ট্রেন যখন একেবারে স্টেশনের মুখে, ঠিক তখন এমন মারাত্মক আন্দোলন কতটা সঠিক?

কারণ, পৃথিবীর কোনো আন্দোলনেরই নির্দিষ্ট গতিপথ থাকে না। থাকলে হয়তো কোটা আন্দোলন এভাবে শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের রূপ নিত না। আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহই ঠিক করে দেয় কখন, কোন দিকে মোড় নেবে পরিস্থিতি। সেখানেই শঙ্কা। নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টাকারীরা কিন্তু এখনো সক্রিয় রয়েছে। 

নির্বাচনের এই অন্তিম সময়ে এমন আন্দোলনে গোপনে কোনো তৃতীয় শক্তি ঢুকে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে না - এ কথা হলফ করে কে বলতে পারে? আমার প্রশ্নটা ঠিক সেই জায়গাতেই।

সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি)  জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। সকালবেলা তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে গেলে শাহবাগে প্রথম বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় একপর্যায়ে দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ।

অন্যদিকে, একই দিন রাজধানীর শাহবাগ মোড়সংলগ্ন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ জনের বেশি আহত হন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ আরও অনেকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করা এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ বিকেল চারটার দিকে যমুনামুখী অগ্রযাত্রা শুরু করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

প্রিয় পাঠক, সরকারি কর্মচারীদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। ড. ইউনূসের সরকার গত দেড় বছর ধরে ‘দেব, দেব’ বলে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। অথচ এখন সরকার বলছে- এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের পক্ষে এত অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। আমার প্রশ্ন, তাহলে এতদিন কর্মচারীদের সঙ্গে এই প্রতারণা কেন? অর্থ উপদেষ্টারা কি আগে এটা বুঝতেন না?

আবার কর্মচারীদের কাছেও আমার প্রশ্ন- নতুন সরকার আসতে আর বড়জোর ১০/১২ দিন বাকি। এত বছর ধৈর্য ধরেছেন, আর কিছুদিন ধরলে কি সর্বনাশ হয়ে যেত? আপনাদের আন্দোলনে যদি দেশি-বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্রকারী পক্ষ ঢুকে নির্বাচন বানচাল করে দেয়, আল্লাহ না করুন-তাহলে শুধু পে-স্কেলই নয়, দেশ ও সার্বভৌমত্বই থাকবে কি?

ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিও একই কথা। দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, ব্যক্তিগতভাবে আমি জীবন দিয়েও শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই। শুধু বিচার নয়, প্রকাশ্য দিবালোকে ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই দাবি এখন আর শুধু ইনকিলাব মঞ্চের নয়, এটি গোটা বাংলাদেশের মানুষের দাবি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মুহূর্তে যমুনামুখী মিছিল, জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবি কতটা বাস্তবসম্মত ? ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন, আজ ৭ ফেব্রুয়ারি বাকি মাত্র পাঁচ দিন। এই অস্থায়ী সরকার কি এই সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করতে পারবে? জাতিসংঘের অধীনে নিতে হলেও তো একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া আছে। এই বাস্তবতায় এই মুহূর্তে এই আন্দোলন কতটা যুক্তিসংগত,সেটাই হাজার টাকার প্রশ্ন।

আরেকটি বড় আশঙ্কা হলো তৃতীয় পক্ষ। সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনে যদি ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে তৃতীয় পক্ষ ঢোকার, তাহলে হাদি হত্যার বিচার আন্দোলনে সেই সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ।

সবশেষে বলতেই হচ্ছে-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। দুটি আন্দোলনেই যেভাবে মারমুখী আচরণ করা হয়েছে, তা নিন্দনীয়। পরিস্থিতি আরও স্মার্টলি, কৌশলে সামলানো যেত।

শেষ কথা একটাই, নির্বাচনের এই অন্তিম সময়ে যে কোনো বড় আন্দোলন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আর নির্বাচন ব্যর্থ হলে দেশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তখন আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তাই সবার আগে নির্বাচন। অতএব-সাধু সাবধান।

লেখক : সম্পাদক,দৈনিক কুমিল্লার জমিন ও সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখা, 01711388308

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়