আজ থেকে প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে, যখন পৃথিবীতে ডাইনোসরদেরও নামনিশানা ছিল না, তখন স্থলভাগের রাজত্ব করত এক অদ্ভুতদর্শন জীব। দেখতে বিশালাকার পাইপের মতো, উচ্চতায় প্রায় ৩০ ফুট। ১৬০ বছর আগে এদের জীবাশ্ম আবিষ্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীরা দ্বিধাবিভক্ত—এরা আসলে কী? দীর্ঘকাল এদের ছত্রাক বা লাইকেন ভাবা হলেও সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই ধারণাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই জীব উদ্ভিদ, প্রাণী বা ছত্রাক—কোনো গোত্রেই পড়ে না।
১৬০ বছরের অমীমাংসিত রহস্য
১৮৫৯ সালে প্রথম প্রোটোট্যাক্সাইটের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়। তখন থেকেই একে নিয়ে রহস্যের শুরু। শুরুতে বিজ্ঞানীরা একে পাইন জাতীয় কোনো প্রাচীন উদ্ভিদের কাণ্ড মনে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, এর ভেতরে উদ্ভিদের মতো কোনো কোষ বা টিস্যু নেই; বরং রয়েছে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত সরু কিছু টিউব বা নালিকা সদৃশ গঠন।
ছত্রাক নাকি সম্পূর্ণ নতুন কিছু?
দীর্ঘদিন একে লাইকেন বা ছত্রাক জাতীয় জীব বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। কিন্তু স্কটল্যান্ডের রেইনি এলাকা থেকে পাওয়া জীবাশ্ম নিয়ে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কোরেন্টিন লোরেনের সাম্প্রতিক গবেষণা ভিন্ন কথা বলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সমসাময়িক ছত্রাকের জীবাশ্মে ‘কাইটিন’ বা ‘গ্লুকান’ এর উপস্থিতি থাকলেও প্রোটোট্যাক্সাইটে তার কোনো চিহ্ন নেই। লোরেনের মতে, "এরা আধুনিক কোনো গোত্রের জীবের সঙ্গেই মেলে না।"
প্রোটোট্যাক্সাইটের শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
উচ্চতা: প্রায় ৩০ ফুট (মানুষের চেয়ে ৪-৫ গুণ লম্বা)।
প্রস্থ: প্রায় ৬ ফুট।
আকৃতি: ডালপালাহীন লম্বাটে স্তম্ভ বা পাইপের মতো।
জীবনকাল: আনুমানিক ৪২-৪৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এদের বিস্তার ছিল।
বিজ্ঞানীদের সংশয়
তবে এই নতুন গবেষণাকে এখনই ধ্রুব সত্য মানতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞ। প্যারিসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক মার্ক-আন্দ্রে সেলোস মনে করিয়ে দিয়েছেন, পৃথিবীতে প্রোটোট্যাক্সাইটের অন্তত ২৫টি প্রজাতি ছিল। মাত্র একটি প্রজাতির ওপর ভিত্তি করে পুরো গোত্রকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন।
ফলে কয়েক কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া এই দানবীয় জীবগুলো আদতে কী ছিল, তা এখনও বিজ্ঞানের জগতের অন্যতম বড় ‘মিসিং লিঙ্ক’। এরা কি বিবর্তনের ধারায় সম্পূর্ণ আলাদা কোনো প্রাণের শাখা ছিল যা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে? উত্তর খুঁজতে মুখিয়ে আছেন বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: ঢাকা মেইল