শিরোনাম
◈ দেবিদ্বারে হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যানার পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা ◈ ঢাকায় বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা: আবহাওয়া শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস ◈ সাত সকালে কেঁপে উঠল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ◈ গণভোটের সভায় তোলপাড়: ১৬১ জন ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকের’ নাম ঘোষণা করলেন রাকসু জিএস আম্মার ◈ বৈধ ভিসা ও টিকিট থাকলেও ফ্লাইটে উঠতে বাধা: ই-ভিসা জটিলতায় বিপাকে যুক্তরাজ্যগামী বাংলা‌দেশি যাত্রীরা ◈ নির্বাচিত সরকারের সামনে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে ক্রাইসিস গ্রুপ ◈ ভারতীয় পণ্যের শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পকে মোদির ধন্যবাদ ◈ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান (ভিডিও) ◈ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকসহ ৮ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ◈ কা‌রো হুকু‌ম পালন না ক‌রে আইসিসিকে নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান শহীদ আফ্রিদির

প্রকাশিত : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:০৮ সকাল
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৪৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগে দুই দলের ভাগাভাগি

গণভ্যুত্থানের পর দেশের ৪৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ভাগাভাগি করেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাশাপাশি ‘জনতা’র চাপে শিক্ষক নিয়োগ, পদায়ন ও অপসারণের ঘটনা ঘটেছে অহরহ। চাপে পড়ে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন এবং আদিবাসী সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতির ছবি মুছে দেওয়ার ঘটনা দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর টিআইবির সম্মেলনকক্ষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে শিক্ষাখাতে ‘অগ্রগতি’ ও ‘ঘাটতি’ অংশে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

শিক্ষাখাতে বেশ কয়েকটি ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- কাঠামোগত দুর্বলতা ও পর্যন্ত বাজেটের ঘাটতি অব্যাহত; পদত্যাগ বা অপসারণের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করা হলেও নিয়োগে মানদণ্ড ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভাগাভাগি।

শিক্ষার্থী ও ‘জনতা’র চাপে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- পাঠ্যপুস্তকের লেখা ও আদিবাসী সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতির চিত্র পরিবর্তন; শিক্ষক নিয়োগ পদায়ন ও অপসারণ; বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বয় কমিটি বাতিল; বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ছাত্রসংসদ কর্তৃক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হেনস্তা; প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণে বিলম্ব।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে শিক্ষাখাতের কিছু অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। অগ্রগতিগুলো হলো- উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ; দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে সার্চ কমিটি গঠন; বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া।

এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন অ্যাডহক বা অস্থায়ী কমিটি গঠনের নির্দেশনা; বেসরকারি কলেজে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড একধাপ উন্নীত এবং বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসির মাধ্যমে করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক ও অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

শিক্ষাখাতে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি চলমান
শিক্ষার্থীদের হাত ধরে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতন ঘটে। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম চাওয়া ছিল শিক্ষাখাতে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার সেই চাওয়া পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণ বলছে, দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এখনো দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি চলমান। দুটি খাতের সংস্কার এ সরকারের যথাযথ মনোযোগও পায়নি। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের অংশীজনদের সব মতামতকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার খাতের সংস্কার সরকারের যথাযথ মনোযোগ না পাওয়া; এসব খাতে অংশীজনদের মতামতকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখা গেছে।

একদিকে, বিভিন্ন খাতে অস্থিরতার পেছনে রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের প্রভাব, অন্যদিকে যৌক্তিক ও অযৌক্তিক আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে নেওয়ার প্রবণতা ছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিকসহ অন্যান্য খাতের সংস্কার উদ্যোগে সিন্ডিকেটে প্রভাব অব্যাহত বলেও উল্লেখ করেছে টিআইবি। 

সূত্র: জাগোনিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়