১৭ জুন বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কমান্ডটির পুরোনো নাম পুনর্বহালের উদ্দেশ্য হলো এর দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতিকে সম্মান জানানো। বিভাগটির ভাষ্য, এই পদক্ষেপ কমান্ডের সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, গর্ব এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অনুভূতি আরও জোরদার করবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ এর নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড’ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে ২০১৮ সালে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন থেকে সরে এসে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক নামটি ফিরিয়ে আনা হলো। তবে বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ভারতের মানচিত্র।
তবে নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কমান্ডটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভারতের একটি বিতর্কিত মানচিত্রও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কমান্ডের ‘এরিয়া অব রেসপন্সিবিলিটি’ মানচিত্রে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর অঞ্চলকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে ভারতীয় মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, নাম পরিবর্তনের ফলে কমান্ডের কৌশলগত লক্ষ্য, দায়িত্ব বা কার্যপরিধিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল অঞ্চলজুড়ে এর কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের আমলে প্রতিষ্ঠিত এই কমান্ডটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিফাইড কমব্যাট্যান্ট কমান্ড। কোরিয়া যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযান এবং দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এটি।
২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস কমান্ডটির নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ রাখেন। সেসময় ওয়াশিংটন যুক্তি দিয়েছিল, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাড়তি কৌশলগত গুরুত্ব এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে প্রতিফলিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
ওই নাম পরিবর্তন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রতীকী প্রকাশ। একই সঙ্গে এটি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করেছিল। যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে দুই দেশের সহযোগিতায় কমান্ডটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।
বর্তমানে হাওয়াইভিত্তিক এই কমান্ডটি প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশ, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলজুড়ে সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের সমন্বয় করে। এর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, যৌথ মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রম।