কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাঁশখালী আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে ইতোমধ্যে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে হেলিপ্যাড এবং সমাবেশের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছেন উপকূলীয় এ জনপদের মানুষ।
স্থানীয়দের প্রধান প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পুরো উপকূলজুড়ে 'মেরিন ড্রাইভ' সড়ক বাস্তবায়ন করা। এছাড়া বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এবং এলাকার অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসৈকতকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি উঠেছে।
পাশাপাশি, বাঁশখালীবাসীর জন্য শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শংখনদীর তৈলারদ্বীপ সেতু টোলমুক্ত করার দাবিও এখন এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে।
দলীয় সূত্র জানায়, আয়োজন সফল করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই জনসভা বাঁশখালীর সার্বিক উন্নয়ন ও রাজনীতিতে একটি নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করছেন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এ ব্যাপারে বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী বলেন, দীর্ঘদিন পর দল ক্ষমতায় এবং দলীয় প্রধানের বাঁশখালী সফরকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও বাহারছড়ার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ বলেন, বাঁশখালী বাসীর স্বার্থে যৌক্তিক দাবী গুলো পেশ করা হবে । আশা রাখি দলের প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগনের স্বার্থে দাবী গুলো পূরণে অঙ্গীকার করবে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীর মাঝে বর্তমানে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাঁশখালীতে আগমনকে ঘিরে দলীয় ভাবে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান । তিনি আরো অবহেলিত বাঁশখালীর উন্নয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পুরো উপকূলজুড়ে 'মেরিন ড্রাইভ' সড়ক বাস্তবায়ন, বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এবং এলাকার অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসৈকতকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবী রাখা হবে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মনেও নানা প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা ও বিভিন্ন জরুরি দাবি নিয়ে মুখর হয়ে উঠেছেন তারা। সমাবেশ থেকে এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট ঘোষণার আশা করছেন সর্বস্তরের জনগণ।