মনিরুল ইসলাম : বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতায় স্থগিত হয়ে গেছে। হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে আদালত নির্বাচন কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, সভাপতি প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের কারণে আদালত ২ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এ ঘটনায় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ প্রযোজকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, মেগাস্টার উজ্জ্বল–লিপু পরিষদ এর পক্ষ থেকে সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্য একটি পোষ্ট দেওয়া হয়। এতে লেখা হয়,সম্মানিত সদস্যবৃন্দ,মাননীয় আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন ২ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।আমরা আদালতের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাই। ইনশাআল্লাহ, পূর্বের সকল মামলা-মোকদ্দমার নিষ্পত্তির পর একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হোক। চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থই আমাদের অঙ্গীকার।
সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানা অনিয়ম ও আপত্তির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে প্রার্থিতা বাতিল, নির্বাচন আপীল বোর্ডে প্রথমে দুটি পদের প্রার্থীতা বাতিল এবং পরে প্রার্থীতা বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে নির্বাচন কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন, ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ আর সম্ভব হয়নি।
নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন সাধারণ প্রযোজকরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমিতির নির্বাচন হচ্ছে না, ফলে সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসক দিয়ে সমিতির কার্যক্রম চলছে। নতুন নেতৃত্ব না থাকায় চলচ্চিত্র শিল্পের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
একাধিক সাধারণ সদস্য জানান, বারবার আইনি জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে প্রকৃত প্রযোজকরা তাদের প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দ্রুত এই জটিলতা নিরসন করে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান।
অন্যদিকে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ দাবি করেছে, অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার নেওয়াই ছিল একমাত্র পথ। তারা মনে করছেন, আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলে শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তারা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার দ্রুত অবসান ঘটবে।