মনিরুল ইসলাম : সম্মাননা প্রদান, আলোচনা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস)-এর ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা (সম্প্রচার) তাশিক আহমেদসহ জিসাস, জাসাস ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও চলচ্চিত্র অভিনেতা শাওন আশরাফ। বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আবুল হোসেন রানার অবদান স্মরণ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক শিল্পীকে বেতার ও টেলিভিশনে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
সভাপতির বক্তব্যে রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরী সংগঠনের পথচলার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। সাধারণ সম্পাদক শাওন আশরাফ বলেন, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিভাজন নয়—ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে এবং জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধারণ করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে হবে।
আয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জিসাস স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। স্বর্ণপদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, তাশিক আহমেদ, মাসুদ জাকারিয়া সাবিন, সংগীতশিল্পী এ্যানি আশরাফ ও জিনাত জাহান চৌধুরী। এছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক, বিসিআরএ এর সভাপতি ও জাসাস নেতা মনিরুল ইসলাম, বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ, অনজন রহমান, দুলাল খান, আহমেদ তেপান্তর, কাদের মনসুর, এফ আই দিপু, মোস্তফা মতিয়ার,নাট্য নির্মাতা গাজী আপেল, অভিনেতা হীরা খান, ও মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন সংগঠনের শিল্পী ও বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে মরহুম আবুল হাশেম রানার হাত ধরে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) প্রতিষ্ঠিত হয়। শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তোলা এবং সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।