বঙ্গোপসাগরের অফশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ টানতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬-এর আওতায় এখন পর্যন্ত ১০টি কোম্পানি কিনেছে তথ্য প্যাকেজ। প্রমোশনাল প্যাকেজ বা বিড ডকুমেন্ট কিনেছে তিনটি কোম্পানি।
এর মধ্যে তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি (টিপিএও), চীনের চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন (সিএনওওসি) ইন্টারন্যাশনাল ও সিনোপেক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড বিড ডকুমেন্ট বা প্রমোশনাল প্যাকেজ কিনেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা সামনে রেখে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে সরাসরি যোগাযোগ ও প্রচারণায় জোর দিচ্ছে সরকার।
আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের অফশোর অনুসন্ধানের সুযোগ তুলে ধরছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
প্রতিনিধিদলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আছেন। লন্ডনের পর যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনেও রোডশো করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৪ সালের দরপত্রে কোনো বিড না পাওয়ার পর সংশোধিত পিএসসির আর্থিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা তুলে ধরে এবার আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে সরকার।
তথ্য প্যাকেজ কিনেছে ১০ কোম্পানি
পোট্রোবাংলার তথ্য বলছে, বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এর আওতায় এখন পর্যন্ত তথ্য প্যাকেজ কিনেছে মোট ১০টি কোম্পানি। এর মধ্যে বেয়ারিঙ্গিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড ২ জুন, ক্রিসএনার্জি ৩ জুন, পিইএএল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ৯ জুন, অনোডা ইনকরপোরেটেড ১০ জুন, রাইস্টাড এনার্জি ১৫ জুন, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ১ জুলাই, টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি (টিপিএও) ২৩ জুলাই, চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন (সিএনওওসি) ইন্টারন্যাশনাল ১৭ আগস্ট, ইমপ্রেশন ভেঞ্চারস এজি ১৯ সেপ্টেম্বর এবং সিনোপেক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড গত ২৩ সেপ্টেম্বর তথ্য প্যাকেজ কিনেছে।
অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এর প্রমোশনাল প্যাকেজ বা বিড ডকুমেন্ট কিনেছে তিনটি কোম্পানি। এগুলো হলো- টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি, চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল ও সিনোপেক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
এর মধ্যে টার্কিশ পেট্রোলিয়াম গত ২৩ জুলাই, চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল গত ১৭ আগস্ট, সিনোপেক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রমোশনাল প্যাকেজ বা বিড ডকুমেন্টস কেনে।
বিনিয়োগ টানতে লন্ডনে রোডশো
বঙ্গোপসাগরের অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিদেশে রোডশো করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এনার্জি সামিটে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ ও সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) তুলে ধরা হয়েছে।
লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জিস সামিট’র স্ট্র্যাটেজিক স্টেজে আয়োজিত মিনিস্টেরিয়াল সেশনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, বঙ্গোপসাগরের অফশোর সম্পদের অপার সম্ভাবনা ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ কাঠামোর চিত্র আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
লন্ডনের এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব বর্তমানে লন্ডন সফর করছেন।
সম্মেলনে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশের’ চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন।
তিনি বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রবাহ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সহায়ক নীতির কথা বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেন।
উপস্থাপনায় বঙ্গোপসাগরের অনাবিষ্কৃত অফশোর সম্ভাবনা, আধুনিক সিসমিক তথ্যের সহজলভ্যতা ও ‘অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’ এর বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক শর্ত বিশদভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে ভূতাত্ত্বিক ও সিসমিক ডেটা পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি চলমান বিডিং রাউন্ডে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন একজন নাম প্রকাশ না করে জানান, প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে বাংলাদেশের অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রম, বিনিয়োগের সুযোগ ও সংশোধিত পিএসসির বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরতে এই সফর।
এই কর্মকতা জানান, এবারের রোডশোর অন্যতম লক্ষ্য আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অফশোর ব্লক নিয়ে আগ্রহ তৈরি করা। বিশেষ করে যেসব আন্তর্জাতিক কোম্পানির গভীর সমুদ্র ও অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের কাছে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এর আওতায় যে ২৬টি ব্লক উন্মুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর ভূতাত্ত্বিক তথ্য, অনুসন্ধানের সুযোগ ও বিনিয়োগের কাঠামো নিয়েও আলোচনা করা হবে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর প্রশ্ন, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত উদ্বেগ ও বাণিজ্যিক প্রত্যাশা সরাসরি জানার সুযোগও তৈরি হবে। এর মাধ্যমে ৩০ নভেম্বর প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমার মধ্যে আরও বেশি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে দরপত্রে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
বিনিয়োগ টানতে সংশোধিত হয়েছে পিএসসি
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি বা পিএসসির আওতায় ২৬টি অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে সরকার। ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ এর আওতায় ১১টি অগভীর সমুদ্রের (শ্যালো ওয়াটার) এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের (ডিপ ওয়াটার) ব্লক রাখা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে এ দরপত্র আহ্বান করা হয়।
দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলো ১ জুন থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করতে পারছে। প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর। ফলে আগ্রহী আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো প্রায় ছয় মাস সময় পাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্লকের ভূতাত্ত্বিক ও ভূকম্পন-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রস্তুতের জন্য। প্রতিটি ব্লকের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পরিবর্তন
এবারের দরপত্রে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পিএসসির আর্থিক ও বাণিজ্যিক শর্তে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত কাঠামোয় গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে সংযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়, ঠিকাদারের করের দায় পেট্রোবাংলার বহন এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটির বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়নি।
এখন পর্যন্ত তিনটি কোম্পানি বিড ডকুমেন্টস কিনেছে। দশটি কোম্পানি তথ্য প্যাকেজ কিনেছে। অনেকেই যোগাযোগ করছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম যোগাযোগ করেছে। যাদের বিভিন্ন বিষয়ে জানার থাকে। কোম্পানি মেইলে যোগাযোগ করে। আমরা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছি।-পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম
অনুসন্ধানের সময়সীমায়ও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী প্রাথমিক অনুসন্ধান পর্ব ছয় বছর। প্রয়োজনে আরও তিন বছর বাড়িয়ে মোট নয় বছর পর্যন্ত অনুসন্ধানের সুযোগ থাকবে। শ্যালো ও ডিপ ওয়াটার- এই দুই ধরনের ব্লকের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ১০০ শতাংশ কস্ট রিকভারির সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া শ্রমিকদের মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিলে বাধ্যতামূলক অবদানের হারও আগের তুলনায় কমিয়ে করা হয়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।
উৎপাদন পর্যায়েও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক আবিষ্কার হলে গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনকাল ২৫ বছর এবং তেলক্ষেত্রের উৎপাদনকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ বছর।
বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আরও সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।
সংশোধিত পিএসসিতে গ্যাস বিক্রির ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় নমনীয়তা আনার উদ্যোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গ্যাস রপ্তানি ও তৃতীয়পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে যেসব বাণিজ্যিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের দরপত্রে জমা পড়েনি কোনো বিড
এর আগে ২০২৪ সালে বঙ্গোপসাগরে অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ওই দরপত্রে নয়টি শ্যালো ওয়াটার ও ১৫টি ডিপ ওয়াটার ব্লক ছিল। সাতটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্রের নথি কিনলেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রস্তাব জমা দেয়নি।
২০২৪ সালের দরপত্রে আগ্রহ দেখানো কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল সিঙ্গাপুরের ক্রিসএনার্জি, যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন বাংলাদেশ ও এক্সনমোবিল, চীনের সিএনওওসি, জাপানের ইনপেক্স করপোরেশন, ভারতের ওএনজিসি এবং থাইল্যান্ডের পিটিটিইপি। দরপত্রের সময়সীমা বাড়িয়েও শেষ পর্যন্ত কোনো বিড পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আগের দরপত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হলেও চূড়ান্তভাবে বিড না আসার পেছনে আর্থিক ও বাণিজ্যিক শর্তসহ কয়েকটি বিষয় প্রভাব ফেলেছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে তাদের প্রত্যাশা ও আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করার পর এবার পিএসসিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সরাসরি যোগাযোগে জোর
নতুন দরপত্রে আন্তর্জাতিক কোম্পানির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার শুধু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পিএসসির আওতায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অভিজ্ঞ বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশের অফশোর ব্লকগুলোর সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিনিয়োগের সুযোগ ও সংশোধিত পিএসসির সুবিধাগুলোও তুলে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশের মোট অফশোর ব্লক ২৬টি। এর মধ্যে ১১টি শ্যালো ওয়াটার এবং ১৫টি ডিপ ওয়াটার। ২০১২ সালের একটি দরপত্রে চারটি ব্লক (তিনটি শ্যালো ও একটি ডিপ ওয়াটার) ঠিকাদারদের দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীসময়ে অফশোর অনুসন্ধানে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। ২০২৬ সালের নতুন দরপত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বঙ্গোপসাগরের এসব এলাকায় নতুন করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে সরকার।
যা বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, প্রথমত সরকারকে তো তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চেষ্টা করতেই হবে। কিন্তু সেই তেল-গ্যাস পাওয়ার পরে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কতটা সহায়ক হবে, কস্ট ইকোনমি কেমন হবে—এসব বিষয় জনগণের কাছে এখনও অন্ধকার। বরাবরই পিএসসি নিয়ে সন্দেহ ছিলো যে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখা হয়, আমাদের দেশীয় স্বার্থ দেখা হয় না। সেই বিষয়টা গ্র্যাজুয়ালি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিনটি কোম্পানি বিড ডকুমেন্টস কিনেছে। দশটি কোম্পানি তথ্য প্যাকেজ কিনেছে। অনেকেই যোগাযোগ করছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম যোগাযোগ করেছে। যাদের বিভিন্ন বিষয়ে জানার থাকে। কোম্পানি মেইলে যোগাযোগ করে। আমরা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছি।’
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আমরা লন্ডনে রোডশো করছি। এতে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলো আকৃষ্ট হবে, অফশোর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে।
সূত্র: জাগো নিউস ২৪