শিরোনাম
◈ ইয়ে‌মে‌নের নি‌র্দেশ, সৌদি আরবের আরামকো স্থাপনা খালি করো, রিয়াদে পাল্টা হামলা চালা‌নো হ‌বে ◈ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার চাপে দেশের পোশাকশিল্প: প্রবৃদ্ধির আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি ◈ ইমরান খানের শক্ত ঘাঁটি অবরুদ্ধ করেছে পাকিস্তান, এর ফল উল্টো হতে পারে ◈ ‌চ‌্যা‌ম্পিয়ন্স লি‌গে দুর্বার বার্সেলোনা, গোলের বন্যায় জয়যাত্রা অব্যাহত ◈ ‌লি‌লের জা‌লে আর্সেনালের ৩ গোল ◈ গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকায় তালিকাভুক্ত ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী, এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ৪৭; আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা ◈ ১২ দি‌নেই বিশ্বকাপ টিকিটের জন‌্য ১৪২ দে‌শ থে‌কে আ‌বেদন প‌ড়ে‌ছে দেড় কো‌টির উপ‌রে ◈ আন্তর্জাতিক উদ্বোধনের আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে কোটি টাকার লাইটিং সিস্টেমের তার চুরি, অডিটের আগে নিরাপত্তাঝুঁকি ◈ সুপার এল নিনোর কবলে বিশ্ব, বাড়ছে দাবানল ◈ বিনিয়োগে স্থবিরতা, প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১৯ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অপরিকল্পিত নগরায়ন, গাছ কাটা এবং গ্রামীণ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে কাউ ফল হারিয়ে যাচ্ছে

সনৎ চক্রবর্ত্তী, ফরিদপুর : ফরিদপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাউ ফল। কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ন, গাছ কাটা এবং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বনজ ও গ্রামীণ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে বর্ষার সুস্বাদু দেশি ফল কাউ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

কাউ ফলের বৈজ্ঞানিক নাম Garcinia Cowa। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ চীন, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম—এই দেশগুলোতে কাউগাছ দেখা যায়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাউ ফল বিভিন্ন নাম থাকলেও এই ফলটি ফরিদপুরে কাউফল নামেই’ পরিচিত। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল একসময় গ্রামবাংলার শিশু-কিশোরদের অন্যতম প্রিয় মৌসুমি ফল ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনে এবং দেশি ফলের গাছ কমে যাওয়ায় কাউ এখন অনেকটাই দুর্লভ হয়ে উঠেছে।

কাউ গাছ একটি দীর্ঘাকার চিরসবুজ বৃক্ষ। এর ডালপালা নিচের দিকে ঝুলে থাকে এবং বছরের অধিকাংশ সময়ই সবুজে আচ্ছাদিত থাকে। সাধারণত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে গাছে ছোট ছোট ফুল ফোটে। ফুল ঝরে যাওয়ার পর ফল ধরতে শুরু করে এবং জুলাই-আগস্ট মাসে ফল পাকতে থাকে। পাকা ফলের প্রতি বাদুড় ও বিভিন্ন বন্য প্রাণীরও বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।

Advertisement

ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে কিছু গাছে শোভা পাচ্ছে কাউ ফল। এটি ফলটি খেতে সুস্বাদু বিশেষ করে অল্প বয়সী ছেলে মেয়েদের কাছে বেশ পরিচিত।  

একসময় গ্রামের বাড়ির আঙিনা, বনবাদাড় কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে প্রচুর কাউ গাছ দেখা যেত। বর্তমানে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটার কারণে এই বৃক্ষ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। দেশের কিছু অঞ্চলে এখনও কাউ গাছের দেখা মেলে। 

আকৃতিতে গোলাকার কাউ ফলের ব্যাস সাধারণত প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার। ফলের গায়ে ছয় থেকে আটটি হালকা খাঁজ থাকে। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং ধূসর-সবুজ হলেও পাকলে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এর খোসা কিছুটা তেলতেলে এবং খোসা ছাড়ালে একটি স্বতন্ত্র গন্ধ পাওয়া যায়। ভেতরের শাঁস কমলা-হলুদ রঙের, রসালো এবং টক-মিষ্টি স্বাদের।

জানা যায়,পুষ্টিগুণে ভিটামিন সি এবং মুখের অরুচি দূর করে। পরিমিত ক্যালোরিসমৃদ্ধ চর্বি, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ ও রোগপ্রতিরোধে এই ফলের প্রয়োজনীয়তা অনেক। সর্দি-জ্বর ও ঠান্ডা সারায়। গাছের ছাল আমাশয়, খিঁচুনি ও মাথাব্যথায় উপকারী।

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, পাকা কাউ ফলের রসালো কোয়াগুলো বের করে নিয়ে মরিচের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভর্তা করে খেতে খুব ভালো লাগে। ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া ছাড়াও জ্যাম- জেলি তৈরি করা হয়। এই ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন সি। যা ত্বকের জন্য অত্যধিক উপকারী।

  • সর্বশেষ