মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করতে যাচ্ছে এক অভাবনীয় রণকৌশলী ট্যাঙ্ক— এম১ই৩ আব্রামস। এটিকে বলা হচ্ছে "হুইস্পারিং ডেথ" বা ফিসফিসানি মৃত্যু। এটি এমন এক হাইব্রিড ট্যাঙ্ক যা যুদ্ধের ময়দানে নিঃশব্দে শত্রু শিবিরে হানা দিতে সক্ষম। নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ বছর আগেই এর প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক সংস্করণ উন্মোচন করা হয়েছে।
সম্প্রতি ডেট্রয়েট অটো শো-তে এই অত্যাধুনিক ট্যাঙ্কের প্রদর্শনী করা হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই ট্যাঙ্কটি ২০২৮ সালের মধ্যে সেনাদের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ট্যাঙ্কের প্রধান কিছু চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, বরং শত্রু যাতে টেরও না পায় সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে এর হাইব্রিড ইঞ্জিন। এটি ক্যাটারপিলার ডিজেল ইঞ্জিনের পাশাপাশি ইলেকট্রিক মোডে চলতে পারে। ফলে যুদ্ধের ময়দানে ট্যাঙ্কটি যখন ইলেকট্রিক মোডে থাকবে, তখন কোনো শব্দ ছাড়াই এটি শত্রুর কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকিরা আব্রামস ট্যাঙ্ককে "ফিসফিসানি মৃত্যু" বলত, আর নতুন এই মডেলটি সেই স্তব্ধতাকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেছে।
আগের আব্রামস ট্যাঙ্কগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৮০ টন, যা অনেক সময় ইউরোপের দুর্বল ব্রিজগুলো দিয়ে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করত। নতুন এম১ই৩-এর ওজন কমিয়ে ৬০ টনে আনা হয়েছে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এটি পোল্যান্ড বা ন্যাটোর অন্যান্য দেশের ৩০ শতাংশ বেশি ব্রিজ ব্যবহার করতে পারবে।
ট্যাঙ্কটির ভেতর চালকদের ইন্টারফেস অনেকটা গেমিং কনসোল বা এক্সবক্স কন্ট্রোলারের মতো আধুনিক। এতে রয়েছে তিনজন ক্রু মেম্বারের বসার জন্য বিশেষভাবে সুরক্ষিত জায়গা। বাইরের ক্যামেরা, থার্মাল সাইট এবং লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার থেকে আসা তথ্য সরাসরি ককপিটের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখা যাবে।
এর টাওয়ারে এখন আর কোনো খোলা জায়গা নেই। ক্রুরা ট্যাঙ্কের ভেতর থেকেই রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ৩০ মিমি চেইন গান এবং জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ফায়ার করতে পারবেন। এছাড়া এতে রয়েছে 'অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম', যা শত্রুর ছোঁড়া রকেট বা ড্রোনকে মাঝপথেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ট্যাঙ্ক ধ্বংসের কৌশল পর্যবেক্ষণ করেই এম১ই৩-কে আরও হালকা ও ড্রোন-প্রতিরোধী করে গড়ে তোলা হয়েছে। মূলত রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এবং ন্যাটোর শক্তি বৃদ্ধিতে এই ট্যাঙ্ক বড় ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন সেক্রেটারি অফ ওয়ার পিট হেগসেথ এই উদ্যোগকে আমেরিকার "অারসেনাল অফ ফ্রিডম" বা স্বাধীনতার অস্ত্রাগার পুনর্গঠনের একটি বড় অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে শব্দের চেয়ে নীরবতা যে বেশি ভয়ংকর হতে পারে, তার প্রমাণ হবে এই নতুন আব্রামস। তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ