শিরোনাম
◈ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নির্বাচনের আগে সরকারি দপ্তরে নতুন গাড়ি কেনার অনুমোদন ◈ পাকিস্তান থেকে কম দামে রেল কোচ ও ওয়াগন কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ ◈ ৪৬তম বিসিএসের ১৪৫৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ ◈ প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নেই পরীক্ষায় পড়বে নতুন সরকার ◈ নির্বাচনে ২৪ ঘণ্টা যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ৭২ ঘন্টা মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ◈ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ আমার ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন : মির্জা আব্বাস ◈ নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো রয়েছে : ইসি মাছউদ ◈ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সুনাম বজায় রাখতে সার্টিফিকেশন জালিয়াতি রোধে কাজ করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার  ◈ প্রায় ২৪ হাজার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ◈ রমজানে অফিসের নতুন সূচি, প্রজ্ঞাপন জারি

প্রকাশিত : ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:২৪ দুপুর
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বেআইনিভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে: এইচআরডব্লিউ

ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক আচরণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। 

সংস্থাটির সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারত সরকার বৈষম্যমূলক নীতি, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। আর এসব ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি ও মানবাধিকার বিষয়ে অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২৬’-এ জানিয়েছে, ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৫ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছে এবং ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে শত শত বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান ও রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার সমালোচকদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছে এবং গণমাধ্যমকে আত্মনিয়ন্ত্রণে বাধ্য করেছে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা ও বিজেপি সমর্থকদের হাতে বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, বৈষম্যমূলক নীতি, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে ভারত সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তুলেছে। মানবাধিকারের পক্ষে বৈশ্বিক কণ্ঠ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার বদলে বিজেপি সরকার ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করেছে।

৫২৯ পৃষ্ঠার ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২৬-এ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ১০০টিরও বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনের ভূমিকায় নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলোপিয়ন লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা ঠেকানোই বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্প প্রশাসনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক শক্তির কারণে মানবাধিকার ব্যবস্থা যখন অভূতপূর্ব হুমকির মুখে, তখন অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক দেশ ও নাগরিক সমাজকে মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় কৌশলগত জোট গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনব্যাপী সশস্ত্র সংঘাত হয়। এর পরপরই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত দমনে কিছু স্বাধীন গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকের কণ্ঠ সাময়িকভাবে রোধ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের জন্য বহু মানুষকে গ্রেফতার করে এবং শিক্ষাবিদ ও ব্যঙ্গকারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং মুসলমানদের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ মুসলমানদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি বেআইনিভাবে ভেঙে ফেলতে থাকে এই দাবি করে যে সেগুলো অবৈধভাবে নির্মিত, কথিত জঙ্গিদের মালিকানাধীন বা ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ দখলে ছিল। এসব পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনারও লঙ্ঘন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে লাদাখে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ চারজনকে গুলি করে হত্যা করে। বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ যান ও বিজেপির কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা আইনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় শিক্ষক ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতার করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন অধিকারকর্মী এখনও কোনও অভিযোগ ছাড়াই কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কারাবন্দি রয়েছেন। পাশাপাশি বিদেশি তহবিল আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাজানো আর্থিক তদন্তসহ নানা উপায়ে অধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজ সংগঠন এবং বিজেপির রাজনৈতিক বিরোধীদের হয়রানি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখে ফেলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও বিরোধী রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বেড়েছে। এর মধ্যে ভোট জালিয়াতি ও ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির অভিযোগও রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উচিত মুসলমান, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে উসকানি বন্ধ করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে নাগরিক সমাজ সংগঠন, বিজেপির রাজনৈতিক বিরোধী ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের হয়রানি ও বিচার বন্ধ করতে হবে এবং অধিকারকর্মী ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সূত্র: এইচআরডব্লিউ

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়