মানবজমিন সম্পাদকীয়: ঘরে বাইরে একই আলোচনা। ভোটের ফলাফল কী হতে পারে। কে জিতবে, কে হারবে– এ নিয়ে তো চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন অনেকেই। হওয়ারই কথা। কারণ দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আয়োজন চূড়ান্ত। আর এই আয়োজন নিয়েই যত আলোচনা। ভোট কি নিরপেক্ষ হবে? প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সঠিক দায়িত্ব পালন করবেন? নাকি ফরমায়েশি কিংবা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করবেন? সম্ভাব্য একটি প্রশাসনিক ক্যু আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। আর এসব নিয়ে বিশ্লেষণ করতে করতে বড় পেরেশান বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আলামত দেখে যথেষ্ট সংশয় ও সন্দেহ দানা বাঁধছে ।
তাদের কথা-যেভাবে প্রশাসন সাজানো হয়েছে তা ২০০৮ এর ইলেকেশনের পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেয়। ভোট শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল চাউর হয়ে গিয়েছিল। এবার কি সেরকমই ? যদিও কেউ কেউ বলছেন, সেই আলোচিত নির্বাচনের কারিগরদের অনেকেই এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন তারা। ভোট নিয়ে নানা কারসাজির খবর রয়েছে। ফাঁস হচ্ছে অডিও। কীভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা যায় তারও একটা তরতাজা ছক শোনা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে নীরব।
কোনো অভিযোগই আমলে নিচ্ছে না তারা। ফলাফল পাল্টে দেয়ার ভুরি ভুরি নজির রয়েছে বাংলাদেশে। এবার কি সে পথেই যাচ্ছে? আফ্রিকার একটি দেশের নির্বাচনী মডেল এখন টেবিলে। একজন নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রশাসনিক ক্যু-এর কাজে নিয়োজিত রয়েছেন এমনটাই শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য সব আলামত পর্যালোচনা করলে যে কেউ এই ধারণা করতেই পারেন- ভোট কলঙ্কিত হবে। আগেভাগেই বলা হচ্ছে- ভোট গণনায় পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এটা কি ফলাফল পাল্টানোর কোনো কৌশল নাকি অদক্ষতা।
সময় যত যাচ্ছে ততই ভোট কারচুপির আগাম আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যে কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। তাদের কথা- এজন্যই কি শত শত মানুষ প্রাণ দিল? দীর্ঘদিন এদেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। একসময় গায়েবি ভোটে বাক্স বোঝাই হতো। এরপর তা হলো দিনে-রাতে, অনেকটা প্রকাশ্যে। এবার কী হবে।
তুলনামূলকভাবে ’৯১ , ’৯৬ এবং ২০০১- এই তিনটি নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছিল। এরপরের ইতিহাস সবার জানা। এখন দেখছি কেউই হারতে রাজি নন। দুই দলের তরফেই সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনে হার-জিত আছে। কিন্তু শুধু জয়ের মানসিকতা অন্য ইঙ্গিত দেয়। জনগণের রায় পাল্টে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা এদেশে বহুবার হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়েছেন।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন কতটা দক্ষ তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে তাদের আন্তরিকতাও। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হবে এটা তো এখন ওপেন সিক্রেট। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ভোটারদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। ভোটের পাঁচদিন আগে দেশ যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হলো তা দেখে সন্দেহ আরও জোরালো হচ্ছে।