স্পোর্টস ডেস্ক : ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) বিবেচনায় সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে সাত দেশের তালিকায় জায়গা পেয়েছে দেশটি। তবে চূড়ান্ত আয়োজক নির্বাচনের আগে পেরোতে হবে আরও কয়েকটি ধাপ।
ভারতের প্রস্তাবিত অলিম্পিক আয়োজনের কেন্দ্র গুজরাটের আহমেদাবাদ। ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসও বসবে এই শহরে। ওই আসরকে সামনে রেখে ক্রীড়া অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে কাজ করছে ভারত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, কমনওয়েলথ গেমসের পর আরও কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে অলিম্পিকের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
ভারতের পাশাপাশি ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের দৌড়ে রয়েছে জার্মানি, হাঙ্গেরি, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্ক। আইওসির কাছে নিজেদের আয়োজন পরিকল্পনা তুলে ধরবে সাতটি দেশই। এরপর প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাটি।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ২০৩৬ অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক আয়োজনের আগ্রহ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছিল ভারত। গত দুই বছর আইওসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সেই পরিকল্পনাকে আরও বিস্তারিত করেছে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (আইওএ)। তাদের আয়োজন-ভাবনার স্লোগান ‘রাইজিং টুগেদার’।
আইওএ সভাপতি পিটি ঊষার ভাষায়, ‘রাইজিং টুগেদার’ কেবল স্লোগান নয়; ভারতের শক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বৈচিত্র্যকে একত্র করে অলিম্পিক স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার। তাঁর মতে, অলিম্পিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিককে আরও জনপ্রিয় করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
আইওসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরু হবে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে শুরু হবে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রক্রিয়া। সবশেষে ২০২৯ সালের মাঝামাঝি ঘোষণা করা হবে ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক দেশের নাম।
সাত দেশের তালিকায় জায়গা পাওয়া ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও অলিম্পিক আয়োজনের চূড়ান্ত ছাড়পত্র এখনো মেলেনি। আহমেদাবাদকে বিশ্ব ক্রীড়ার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত, তার বাস্তবায়নই এখন বড় পরীক্ষা।