মনিরুল ইসলাম : বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, দ্রুত নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা এবং বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারণ, শতভাগ উৎসব ভাতা এবং সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদানের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. সেলিম ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনমান নিশ্চিত করতে তাঁদের চাকরি জাতীয়করণ জরুরি।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে জাতীয়করণের বিকল্প নেই।
সংগঠনটির দাবি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতাসহ চাকরি জাতীয়করণে বছরে প্রায় ২৬ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
তবে জাতীয়করণের সম্ভাব্য ব্যয়ের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের বেতন, সেশন চার্জ, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ থেকে আয়, সঞ্চিত অর্থের সুদ এবং রিজার্ভ ফান্ড থেকে বছরে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছে ঐক্যজোট।
সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যমান সরকারি ব্যয় ও সম্ভাব্য আয় সমন্বয় করলে জাতীয়করণে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা হতে পারে। এ হিসাবকে সামনে রেখে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতারা মনে করেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য দূর করা গেলে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত স্থিতিশীলতা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আট দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্য নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।