শিরোনাম
◈ পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার দায় স্বীকার, ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে আটক ◈ টানবাজারে ৮১.৬ টন কেমিক্যালের সন্ধান, বন্ড সুবিধার ৪৫ টন কেমিক্যাল উধাও ◈ ১৪ বছর পর অ্যানফিল্ডে আর্সেনালের জয় ◈ উচ্চশিক্ষায় সাড়ে আট লাখ আসন ফাঁকা থাকার শঙ্কা, সংকটে পড়বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ◈ রিয়াল মা‌দ্রিদের জয় ◈ ইসরা‌য়েল ও আ‌মে‌রিকার মোকা‌বিলায় ইরান নতুন টা‌র্গেট প্রস্তুত কর‌ছে, এবারের জবাব হবে আরও কঠোর ◈ বিপিএল বন্ধের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে: লুৎফর রহমান বাদল ◈ গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত, মহাসড়কে বিক্ষোভ; ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ◈ আজও উত্তপ্ত মিরপুর, পুলিশ-শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ◈ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ দুপুর
আপডেট : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

উচ্চশিক্ষায় সাড়ে আট লাখ আসন ফাঁকা থাকার শঙ্কা, সংকটে পড়বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

মনিরুল ইসলাম : চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে। পাসের হার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। বিপরীতে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। ফলে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও ফাঁকা থাকবে ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৩টি আসন।

অর্থাৎ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৫৬ শতাংশের বেশি এবার শিক্ষার্থীশূন্য থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বড় ধরনের শিক্ষার্থী সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের আয়, পরিচালন ব্যয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমের ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাসের হার কমায় উচ্চশিক্ষায় বড় ধাক্কা

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। সে হিসাবে উত্তীর্ণের হার প্রায় ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

Advertisement

গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার হওয়ায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তির যোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অথচ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন রয়েছে বিপুলসংখ্যক।

গত শনিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, এবার উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আসনসংখ্যার সঙ্গে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যার বড় ব্যবধানের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কোথায় কত আসন

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত ৬১টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি। অন্যদিকে দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার।

সব মিলিয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি।

তবে উচ্চশিক্ষার আসনসংখ্যার বড় অংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে অনার্সে আসন রয়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার, ডিগ্রিতে ৪ লাখ ৪২ হাজার এবং অনার্স প্রফেশনাল কোর্সে প্রায় ১০ হাজার।

এ ছাড়া ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ১১ হাজার ২৯০টি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে ১১ হাজার ৫৫টি এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ হাজার ৪৩৪টি আসন রয়েছে।

দেশের প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ হাজার ১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৫৬টি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৩৩টি আসন রয়েছে। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও রয়েছে বিভিন্নসংখ্যক আসন।

সবচেয়ে বেশি চাপে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এ কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা দেখা যায়। সেখানে সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সরকারি অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। এরপর আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তির ওপর নির্ভর করে পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করে, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।

কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় ও শিক্ষা কার্যক্রমের বড় অংশ নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও টিউশন ফির ওপর। শিক্ষার্থী কমে গেলে আয় কমার পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

তবে প্রথম সারির কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিত্তশালী পরিবারের শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই ভর্তি হয়ে থাকেন। ফলে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সংকটের প্রভাব সমান হবে না। তুলনামূলক কম পরিচিত এবং শিক্ষার্থী ভর্তিতে আগে থেকেই প্রতিযোগিতার মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি চাপে পড়তে পারে।

উচ্চশিক্ষায় আসন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন

এবারের ভর্তি পরিস্থিতি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আসন পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীর চাহিদা এবং শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা—দুটি বাস্তবতা একই সঙ্গে বিদ্যমান।

এ অবস্থায় শুধু আসনসংখ্যা বাড়ানো বা কমানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত চাহিদা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা, বিষয়ভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শিক্ষার মান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বিদ্যমান আসনের বিপুল ব্যবধান আগামী শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য শিক্ষার্থী আকর্ষণ, শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং আর্থিক সক্ষমতা ধরে রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।